শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পরও থামেনি তাঁর অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ ও তৎকালীন সরকারের বিভিন্ন অপকর্মের অন্যতম এজেন্ডা হিসেবে পরিচিত কথিত ভুঁইফোঁড় সাংবাদিক নাজমুল হোসেনের দেশবিরোধী চক্রান্ত। অভিযোগ রয়েছে, ভুয়া ও ছদ্মবেশী সাংবাদিক নাজমুল হোসেন ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে ‘মায়ের কান্না’ অনুষ্ঠানসহ তৎকালীন বিভিন্ন অনুষ্ঠানে মহান স্বাধীনতার ঘোষক শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান, সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া এবং বর্তমান প্রধানমন্ত্রী জনাব তারেক রহমানকে নিয়ে বিভিন্ন আপত্তিকর মন্তব্য প্রচার করে আসছেন। কথিত সাংবাদিক নাজমুল হোসেন রংপুরে জিয়াউর রহমানের গুমের ইতিহাস’ অনুষ্ঠানে বক্তব্য দিতে গিয়ে জিয়া পরিবারকে নিয়ে ব্যাপক বিষোদ্গার করেন। তিনি জিয়া পরিবারকে দেশের মানুষের কাছে বিতর্কিত প্রমাণের চেষ্টা চালান এবং বর্তমান প্রধানমন্ত্রী যাতে দেশে ফিরতে না পারেন, সে বিষয়ে নানা অপচেষ্টা চালিয়ে যান। বর্তমানে ছদ্মবেশে দেশে আত্মগোপনে থেকে তিনি অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের আমল থেকে শুরু করে বর্তমান সরকারের বিভিন্ন উচ্চপদস্থ দপ্তর ও মন্ত্রণালয়ে কৌশলে প্রবেশ করছেন। সেখান থেকে স্পর্শকাতর বিভিন্ন নথিপত্র ও তথ্য সংগ্রহ করে সীমান্তে ওপারে পালিয়ে থাকা ফ্যাসিস্টদের দোসরদের কাছে পাচার করছেন এবং সরকার পতনের বিভিন্ন নীলনকশা ও ফন্দিফিকির বাস্তবায়নে লিপ্ত রয়েছেন। বঙ্গবন্ধু বিষয়ক বইয়ের মেধা ও গ্রন্থস্বত্ব প্রাপ্ত তথ্যে জানা যায়, মুজিব শতবর্ষ উপলক্ষে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা অধিদপ্তর থেকে দেশের সব প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিশুদের মাঝে বিতরণের জন্য 'বঙ্গবন্ধু বুক কর্নার' প্রকল্পের অধীনে 'বঙ্গবন্ধু মানেই স্বাধীনতা' নামক বইটির ৬৫ হাজার ৭০০ কপি কেনা হয়। মূল বইটির প্রকৃত সম্পাদক ছিলেন অমিতাভ দেউরী। কিন্তু প্রতারণামূলকভাবে মূল সম্পাদকের নাম বাদ দিয়ে নিজের নাম বসান নাজমুল হোসেন। পরবর্তীতে তিনি ও তাঁর স্ত্রী শারমিন সুলতানার মালিকানাধীন 'জার্নি মাল্টিমিডিয়া' নামক প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে সরকারি তহবিল থেকে ১১ কোটি ২ লাখ ৯৩ হাজার ৮৭৫ টাকা হাতিয়ে নেন। শুধু প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরই নয়, একইভাবে জালিয়াতির আশ্রয় নিয়ে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয় এবং বাংলাদেশ জেল (কারা অধিদপ্তর) থেকে প্রকাশিত বইয়ের স্বত্ব চুরি করে আরও অর্থ লুটপাট করে এই চক্র। দুটি বই থেকে তারা মোট প্রায় ২১ কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়ে রাতারাতি বিপুল সম্পদের মালিক হন। জ্যেষ্ঠ সাংবাদিকরা এই ঘটনাকে দেশের ইতিহাসের অন্যতম বড় বুদ্ধিবৃত্তিক ও আর্থিক দুর্নীতি বলে আখ্যা দিয়েছেন। দেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব এবং অর্থব্যবস্থা নিয়ে ছিনিমিনি খেলা এই জালিয়াত চক্রের মূল হোতা নাজমুল হোসেন ও তাঁর স্ত্রী শারমিন সুলতানাকে অবিলম্বে গ্রেফতার করে আইনের আওতায় আনার জোর দাবি জানিয়েছে বিভিন্ন সাংবাদিক সংগঠন, সচেতন নাগরিক সমাজ ও এলাকাবাসী। আন্দোলনকারীরা হুঁশিয়ারি দিয়ে জানিয়েছেন, স্বৈরাচারের এই দোসরদের দ্রুত সময়ের মধ্যে গ্রেফতার করে উপযুক্ত শাস্তি নিশ্চিত করা না হলে রাজপথে কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।