মাদকাসক্তি কোনো অপরাধ নয়, এটি একটি ব্যাধি এবং সুস্থ জীবনে ফেরার শেষ ভরসা হলো নিরাময়কেন্দ্রগুলো। কিন্তু রাজধানীসহ দেশজুড়ে গড়ে ওঠা পাঁচ শতাধিক বাণিজ্যকেন্দ্রের বেশির ভাগই অবৈধ ও সাইনবোর্ডসর্বস্ব। সেবার নামে এসব প্রতিষ্ঠানে চলছে নির্যাতন, অর্থ লুটপাট এবং প্রকাশ্য মাদক ব্যবসা।
রাজধানীর অভিজাত এলাকার বীকন পয়েন্টের চিত্রটি কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়, বরং এটি দেশের অধিকাংশ বেসরকারি কেন্দ্রের নৈরাজ্যের উদাহরণ। কোনো পরীক্ষা ছাড়া রোগী ভর্তি, নামহীন ওষুধ খাইয়ে অবচেতনে রাখা এবং যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করে টাকা হাতিয়ে নেওয়া হচ্ছে। ক্যাচিং পার্টি ভাড়া করে পারিবারিক বিরোধের জেরে সুস্থ মানুষকেও মাদকাসক্ত বানিয়ে আটকে রাখা হচ্ছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, বন্দিত্ব বা শারীরিক নির্যাতন কখনো চিকিৎসার অংশ হতে পারে না বরং এতে রোগী মানসিক ভারসাম্য হারায়। মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নজরদারির শিথিলতার কারণেই এসব প্রতিষ্ঠান অপরাধচক্রে পরিণত হয়েছে।
অবৈধ ও নামসর্বস্ব নিরাময়কেন্দ্রে অবিলম্বে যৌথ অভিযান পরিচালনা করে লাইসেন্স বাতিল ও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা দরকার। সরকারি পর্যায়ে আধুনিক কেন্দ্রের সংখ্যা বাড়িয়ে বৈধ কেন্দ্রগুলোতে নিয়মিত অডিট করতে হবে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও স্বাস্থ্য বিভাগের সমন্বিত পদক্ষেপে এই গোপন কারাগারগুলোর অস্তিত্ব মুছে ফেলতে হবে।