বিদ্যুৎ সরবরাহে ঘাটতির কারণে আবাসিক গ্রাহকদের পাশাপাশি ক্ষুদ্র, মাঝারি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান এবং রফতানিমুখী শিল্প কারখানায় মারাত্মক সঙ্কট দেখা দিয়েছে। গ্যাস সঙ্কটের কারণে শিল্পকারখানায় বিদ্যুতের ঘাটতি এ বছর তুলনামূলক বেড়েছে এবং উৎপাদন ৩০ থেকে ৪০ শতাংশ পর্যন্ত কমে গেছে। গাজীপুরের এক কারখানা মালিক জানান, ডিজেল জেনারেটর দিয়ে কারখানা চালাতে গিয়ে উৎপাদন খরচ বহুগুণ বেড়ে গেছে এবং সময়মতো শিপমেন্ট দিতে না পারলে বায়াররা অর্ডার অন্যত্র নিয়ে যাওয়ার হুমকি দিচ্ছে। দীর্ঘ সময় লোডশেডিংয়ের কারণে দেশের কিছু জায়গায় বিদ্যুৎ অফিসে গ্রাহকদের হামলা-ভাঙচুরের ঘটনাও ঘটেছে। নিরাপত্তার স্বার্থে গ্রিড, উপকেন্দ্র ও অফিসগুলোর জন্য পুলিশ প্রধানের কাছে চিঠি পাঠিয়েছে বাংলাদেশ পল্লী বিদ্যুৎ অ্যাসোসিয়েশন। গোপালগঞ্জ ও নীলফামারিসহ বিভিন্ন জেলার বিদ্যুৎ অফিসও নিরাপত্তা চেয়ে প্রশাসনের কাছে আবেদন জানিয়েছে। বিদ্যুৎ বিভাগের তথ্য অনুযায়ী দেশে বর্তমানে উৎপাদন সক্ষমতা ক্যাপটিভ পাওয়ারসহ ৩৩ হাজার মেগাওয়াট এবং চলতি বছর মে মাসে সর্বোচ্চ ১৭ হাজার ২০১ মেগাওয়াট উৎপাদনের রেকর্ড হয়েছে। তবে পাওয়ার গ্রিড কোম্পানি অফ বাংলাদেশ বা পিজিসিবি'র তথ্য অনুযায়ী গত ১০ই অগাস্ট একদিনেই সর্বোচ্চ তিন হাজার ৭৫৭ মেগাওয়াট লোডশেডিং করা হয়েছে। প্রাথমিক জ্বালানি বিশেষ করে এলএনজি আমদানিতে সঙ্কটের কারণে পরিস্থিতি সামাল দেওয়া কঠিন হয়েছে বলে জানিয়েছে সরকার। বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতের বর্তমান সংকটের জন্য প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জনগণের কাছে দুঃখ প্রকাশ করেছেন এবং পরিস্থিতির উন্নতিতে অন্তত দুই বছর সময় লাগবে বলে জানানো হয়েছে। বিগত সরকারের সময় গ্যাস ও কয়লা উত্তোলন না বাড়িয়ে আমদানি নির্ভরতা বাড়ানো এবং সাশ্রয়ী বিদ্যুৎ কেন্দ্র সময়মতো উৎপাদনে না আসায় বর্তমান পরিস্থিতি জটিল হয়েছে বলে মত বিশেষজ্ঞদের। সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ সিপিডির গবেষণা পরিচালক ড. গোলাম মোয়াজ্জেম বলেন, বিগত সরকার কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র দ্রুত নির্মাণ এবং নবায়নযোগ্য জ্বালানি পরিকল্পনা যথাসময়ে সম্পন্ন করতে পারেনি। কনজিউমারস অ্যাসোসিয়েশন বাংলাদেশ ক্যাব-এর জ্বালানি উপদেষ্টা ড. এম শামসুল আলম জানান, বিগত সরকার ব্যয়বহুল জ্বালানি দিয়ে বিদ্যুৎ উৎপাদনকে গুরুত্ব দিয়েছে এবং খাতটিকে সেবা খাত থেকে মুনাফাভিত্তিক খাতে পরিণত করেছে। গ্যাসভিত্তিক সিস্টেম থেকে বেরিয়ে নবায়নযোগ্য জ্বালানি, ইলেকট্রিক বয়লার ও সোলার বেজ সেচের দিকে যাওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। এছাড়া আঞ্চলিক গ্রিড সক্রিয় করে ভারত, নেপাল, ভুটান ও মিয়ানমার থেকে বিদ্যুৎ আমদানির সুযোগ বাড়ানোর ওপর জোর দিয়েছেন তারা।