বন্ধ করুন
৩৫ বছর পর প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ রাষ্ট্রপতি নির্বাচন, বাংলাদেশের নতুন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল
ডিজাইন:
100%
ইপেপার সংস্করণ
Mahakallol News | বাংলাদেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ
দৈনিক পত্রিকা


দৈনিক পত্রিকা ২৯ আগস্ট ২০২৬ ইপেপার সংস্করণ
Mahakallol News | বাংলাদেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ

ইপেপার সংস্করণ ২৯ আগস্ট ২০২৬ দৈনিক পত্রিকা

Mahakallol News | বাংলাদেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ


৩৫ বছর পর প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ রাষ্ট্রপতি নির্বাচন, বাংলাদেশের নতুন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল


প্রকাশ: ২১ আগস্ট ২০২৬ প্রিন্ট:
৩৫ বছর পর প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ রাষ্ট্রপতি নির্বাচন, বাংলাদেশের নতুন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল
৩৫ বছর পর প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ রাষ্ট্রপতি নির্বাচন, বাংলাদেশের নতুন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল
Featured Image

দীর্ঘ ৩৫ বছর পর প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে নতুন অধ্যায়ের সূচনা হয়েছে। বিএনপির জ্যেষ্ঠ নেতা ও সদ্য সাবেক মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর নির্বাচিত হয়েছেন গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি।

বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) জাতীয় সংসদ ভবনে অনুষ্ঠিত রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে তিনি ২৫৫ ভোট পেয়ে জয়ী হন। তাঁর একমাত্র প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতে ইসলামী নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী ও লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) চেয়ারম্যান অবসরপ্রাপ্ত কর্নেল অলি আহমদ পেয়েছেন ৮৮ ভোট। মোট ৩৪৯ জন সংসদ সদস্য ভোটার থাকলেও ভোট দিয়েছেন ৩৪৩ জন।

নির্বাচনের ফল ঘোষণা করেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার ও রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের নির্বাচনী কর্মকর্তা এ এম এম নাসির উদ্দিন। পরে নির্বাচন কমিশন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত ঘোষণা করে প্রজ্ঞাপন জারি করে।

যে নির্বাচন আলাদা করে মনে রাখবে বাংলাদেশ

বাংলাদেশে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন সাধারণত সংসদে সংখ্যাগরিষ্ঠ দলের প্রার্থীর নির্বাচিত হওয়ার মধ্য দিয়েই সম্পন্ন হয়। কিন্তু এবারের নির্বাচন ছিল ব্যতিক্রম।

১৯৯১ সালের পর এবারই প্রথম রাষ্ট্রপতি পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হলো। ফলে সংখ্যাগরিষ্ঠতার ভিত্তিতে ফল অনেকটা অনুমেয় হলেও দুই প্রার্থীর সরাসরি প্রতিদ্বন্দ্বিতা নির্বাচনটিকে রাজনৈতিকভাবে বিশেষ তাৎপর্য দিয়েছে।

জাতীয় সংসদ ভবনের অধিবেশন কক্ষে বৃহস্পতিবার দুপুরে ভোটগ্রহণ শুরু হয়ে বিকেল ৫টা পর্যন্ত চলে। ভোট ও গণনা শেষে মির্জা ফখরুলের জয় নিশ্চিত হয়।

কে এই মির্জা ফখরুল?

মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বাংলাদেশের রাজনীতিতে দীর্ঘদিনের পরিচিত ও প্রভাবশালী রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব। শিক্ষকতা দিয়ে কর্মজীবন শুরু করা এই রাজনীতিক বিভিন্ন পর্যায় পেরিয়ে জাতীয় রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবস্থান তৈরি করেন।

দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনের এক পর্যায়ে তিনি বিএনপিতে যোগ দেন এবং ধীরে ধীরে দলের কেন্দ্রীয় নেতৃত্বে উঠে আসেন। ২০১৬ সাল থেকে তিনি বিএনপির মহাসচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন।

বিরোধী রাজনীতির দীর্ঘ সময়জুড়ে তিনি বিএনপির অন্যতম প্রধান মুখ হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। রাজনৈতিক সংকট, আন্দোলন এবং সরকারের সঙ্গে বিরোধ—বিভিন্ন সময়ে দলের বক্তব্য তুলে ধরার ক্ষেত্রে তাঁর ভূমিকা ছিল গুরুত্বপূর্ণ।

এবার সেই দীর্ঘ রাজনৈতিক পথ পেরিয়ে তিনি পৌঁছালেন রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ সাংবিধানিক পদে।

রাজনীতি থেকে বঙ্গভবনে

মির্জা ফখরুলের রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হওয়ার ঘটনা তাঁর ব্যক্তিগত রাজনৈতিক জীবনের পাশাপাশি বাংলাদেশের রাজনীতির জন্যও তাৎপর্যপূর্ণ।

২০২৬ সালের জাতীয় নির্বাচনের পর বিএনপি সরকার গঠন করে এবং তারেক রহমান প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেন। এরপর রাষ্ট্রপতি পদে বিএনপির পক্ষ থেকে মির্জা ফখরুলের নাম প্রস্তাব করা হয়। দলীয় প্রার্থী হিসেবে তাঁর মনোনয়ন চূড়ান্ত হওয়ার পর রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে তাঁর জয় অনেকটাই প্রত্যাশিত ছিল।

তবে প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ নির্বাচন হওয়ায় ফলাফলটি কেবল আনুষ্ঠানিকতায় সীমাবদ্ধ থাকেনি। সংসদে ভোটের মাধ্যমে মির্জা ফখরুল রাষ্ট্রপতি পদে নির্বাচিত হয়েছেন।

২৫৫ ভোটের জয়

রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে মোট ৩৪৯ জন সংসদ সদস্য ভোট দেওয়ার যোগ্য ছিলেন। ভোট দিয়েছেন ৩৪৩ জন।

ফলাফলে—মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর — ২৫৫ ভোট। কর্নেল (অব.) অলি আহমদ — ৮৮ ভোট

ব্যবহৃত ৩৪৩টি ব্যালটই বৈধ ছিল।

ফল ঘোষণার পর প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান নবনির্বাচিত রাষ্ট্রপতিকে ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানান।

নতুন রাষ্ট্রপতির সামনে বড় দায়িত্ব

বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি রাষ্ট্রের সাংবিধানিক প্রধান এবং সশস্ত্র বাহিনীর সর্বাধিনায়ক। যদিও সংসদীয় ব্যবস্থায় রাষ্ট্রপতির অধিকাংশ ক্ষমতা সংবিধান অনুযায়ী নির্ধারিত এবং অনেক ক্ষেত্রে প্রধানমন্ত্রীর পরামর্শের ভিত্তিতে প্রয়োগ করা হয়, তবু রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ সাংবিধানিক কার্যক্রমে রাষ্ট্রপতির ভূমিকা রয়েছে।

মির্জা ফখরুলের জন্য সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হবে দীর্ঘদিনের দলীয় রাজনীতির পরিচয় পেছনে রেখে রাষ্ট্রপতির সাংবিধানিক দায়িত্বকে সামনে রাখা।

কারণ রাষ্ট্রপতি হিসেবে তাঁকে শুধু বিএনপির নেতা হিসেবে নয়, পুরো বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করতে হবে।

রাজনৈতিক পরিচয়ের বাইরে রাষ্ট্রপতির ভূমিকা

মির্জা ফখরুল দীর্ঘদিন একটি রাজনৈতিক দলের শীর্ষ নেতৃত্বে ছিলেন। এখন তাঁর দায়িত্বের পরিধি সম্পূর্ণ ভিন্ন।

রাষ্ট্রপতির পদে থেকে রাষ্ট্রের সব নাগরিকের প্রতিনিধিত্ব করার প্রত্যাশা থাকবে তাঁর ওপর। রাজনৈতিকভাবে বিভক্ত একটি দেশে রাষ্ট্রপতির নিরপেক্ষতা, সাংবিধানিক অবস্থান এবং বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে ভারসাম্যপূর্ণ সম্পর্ক বিশেষ গুরুত্ব পাবে।

তাঁর দীর্ঘ রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা একদিকে যেমন রাষ্ট্র পরিচালনার বাস্তবতা বুঝতে সহায়তা করতে পারে, অন্যদিকে দলীয় রাজনীতির সঙ্গে দীর্ঘ সম্পৃক্ততা তাঁর রাষ্ট্রপতি হিসেবে ভূমিকার ওপর জনমতের বাড়তি নজরও তৈরি করবে।

আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও বাড়বে নজর

বাংলাদেশের নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের খবর দেশের সীমানার বাইরেও গুরুত্ব পেয়েছে। যুক্তরাজ্য ও চীনসহ বিভিন্ন দেশ মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে অভিনন্দন জানিয়েছে।

বাংলাদেশের রাজনৈতিক পরিবর্তনের ধারাবাহিকতায় নতুন রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব গ্রহণ আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদের কাছেও গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে প্রতিবেশী দেশ, পশ্চিমা রাষ্ট্র এবং বাংলাদেশের দীর্ঘদিনের উন্নয়ন ও বাণিজ্য অংশীদারদের সঙ্গে সম্পর্কের ক্ষেত্রে রাষ্ট্রপতির সাংবিধানিক ও রাষ্ট্রীয় ভূমিকা নজরে থাকবে।

একটি নতুন অধ্যায়ের শুরু

মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হওয়ার মধ্য দিয়ে তাঁর দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে একটি বড় পরিবর্তন এসেছে।

যে ব্যক্তি বছরের পর বছর একটি রাজনৈতিক দলের মহাসচিব হিসেবে দলীয় রাজনীতির নেতৃত্ব দিয়েছেন, এখন তাঁকেই রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ সাংবিধানিক পদে বসে বৃহত্তর জাতীয় স্বার্থকে সামনে রেখে দায়িত্ব পালন করতে হবে।

৩৫ বছর পর প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ রাষ্ট্রপতি নির্বাচন, নতুন সরকারের রাজনৈতিক বাস্তবতা এবং পরিবর্তিত বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে মির্জা ফখরুলের রাষ্ট্রপতি হিসেবে যাত্রা তাই শুধু একটি নতুন নিয়োগ নয়—এটি দেশের রাজনৈতিক ইতিহাসের একটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন।

এখন দেখার বিষয়, দলীয় রাজনীতির দীর্ঘ অভিজ্ঞতা নিয়ে বঙ্গভবনে যাওয়া মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর কীভাবে রাষ্ট্রপতির সাংবিধানিক দায়িত্ব পালন করেন এবং নতুন রাজনৈতিক বাস্তবতায় রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ পদটির মর্যাদা ও নিরপেক্ষতা কতটা দৃঢ়ভাবে ধরে রাখেন।