খেলাপি ঋণ আদায়ের প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত করতে এবং আদালতে বিচারাধীন মামলার চাপ কমাতে বিকল্প বিরোধ নিষ্পত্তি সংক্রান্ত নতুন নীতিমালা জারি করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। বৃহস্পতিবার জারি করা ‘বিকল্প বিরোধ নিষ্পত্তির (এডিআর) জন্য মধ্যস্থতাকারী প্রতিষ্ঠান তালিকাভুক্তিকরণ সংক্রান্ত নীতিমালা, ২০২৬’ শীর্ষক এই নির্দেশনা অবিলম্বে কার্যকর হবে বলে জানানো হয়েছে।
নতুন নীতিমালা অনুযায়ী, এডিআর পরিচালনায় আগ্রহী প্রতিষ্ঠানকে সোসাইটিজ রেজিস্ট্রেশন অ্যাক্ট, পার্টনারশিপ অ্যাক্ট বা কোম্পানি আইনের আওতায় নিবন্ধিত হতে হবে। পাশাপাশি হালনাগাদ ট্রেড লাইসেন্স, টিআইএন এবং কমপক্ষে তিন বছরের পেশাগত বা ব্যবসায়িক অভিজ্ঞতা থাকতে হবে। আবেদনকারী প্রতিষ্ঠানের নিজস্ব কার্যালয়, মধ্যস্থতা কক্ষ, ডিজিটাল কেস ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম ও অনলাইন শুনানির সুব্যবস্থা থাকা বাধ্যতামূলক।
নীতিমালায় আরও বলা হয়, প্রতিটি তালিকাভুক্ত প্রতিষ্ঠানের অন্তত পাঁচ সদস্যের একটি মধ্যস্থতাকারী প্যানেল থাকতে হবে, যেখানে অন্তত একজন হিসাববিদ ও একজন আইন বিশেষজ্ঞ থাকবেন। মধ্যস্থতাকারীদের সংশ্লিষ্ট খাতে অন্তত ১০ বছরের অভিজ্ঞতা থাকতে হবে এবং তারা কোনোভাবেই ঋণখেলাপি বা রাজনৈতিকভাবে প্রভাবশালী ব্যক্তি হতে পারবেন না।
বাংলাদেশ ব্যাংক জানিয়েছে, আবেদন মূল্যায়নে ১০০ নম্বরের মধ্যে তালিকাভুক্ত হতে ন্যূনতম ৭০ নম্বর পেতে হবে। প্রাথমিকভাবে এই তালিকাভুক্তির মেয়াদ হবে তিন বছর এবং মেয়াদ শেষ হওয়ার অন্তত ৯০ দিন আগে নবায়নের আবেদন করতে হবে। এছাড়া প্রতিষ্ঠানগুলোকে প্রতি বছর কেন্দ্রীয় ব্যাংকে বার্ষিক প্রতিবেদন জমা দিতে হবে এবং অনিয়ম বা নীতিমালা লঙ্ঘনের ক্ষেত্রে তালিকাভুক্তি বাতিলের ক্ষমতা রাখবে বাংলাদেশ ব্যাংক।