কুমিল্লা ও চট্টগ্রাম অঞ্চলের রেলপথে পাথর নিক্ষেপের ঘটনা বাড়তে থাকায় যাত্রীদের মধ্যে নিরাপত্তা নিয়ে বড় ধরনের প্রশ্ন তৈরি হয়েছে। চট্টগ্রাম-আখাউড়া, চট্টগ্রাম-কক্সবাজার, লাকসাম-নোয়াখালী এবং লাকসাম-চাঁদপুর রেলপথে আন্তঃনগর ও মেইল এক্সপ্রেস মিলিয়ে ২৬ জোড়া ট্রেন চলাচল করে। প্রতিদিন এসব পথে প্রায় ২৫ হাজার মানুষ যাতায়াত করলেও চলন্ত ট্রেনে হঠাৎ পাথর এসে পড়ায় যাত্রীরা সবসময় আতঙ্কিত থাকেন।
রেলওয়ের পরিসংখ্যান বলছে, চলতি বছরের মার্চ থেকে জুলাই পর্যন্ত বিভিন্ন পথে চলন্ত ট্রেনে ৬২টি পাথর নিক্ষেপের ঘটনা নথিভুক্ত হয়েছে। এসব ঘটনায় সাধারণ যাত্রী ও নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যসহ অন্তত ১৫ জন আহত হয়েছেন এবং সংশ্লিষ্টদের দাবি বাস্তবে ঘটনার সংখ্যা আরও বেশি। এই ৬২টি ঘটনার মধ্যে ব্রাহ্মণবাড়িয়া, কুমিল্লা ও চট্টগ্রাম পথে ঘটেছে ৩৭টি, চট্টগ্রাম-কক্সবাজার পথে ১৯টি, লাকসাম-নোয়াখালী পথে চারটি এবং লাকসাম-চাঁদপুর পথে দুটি ঘটনা।
রেলওয়ে চট্টগ্রাম অঞ্চলের সহকারী পরিবহন কর্মকর্তা-২ মো. মনিরুজ্জামান জানান, পাথর নিক্ষেপের ঘটনায় শুধু যাত্রীরা আহত হচ্ছেন না, বরং সরকারি সম্পদ ট্রেনও মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। প্রতিটি ঘটনায় ট্রেনের জানালার কাচ ভাঙছে এবং একটি এসি বগির জানালা ক্ষতিগ্রস্ত হলে তা মেরামত না হওয়া পর্যন্ত পুরো বগিটি চলাচলের অনুপযুক্ত হয়ে পড়ে। এতে যাত্রী নিরাপত্তার পাশাপাশি রেলওয়ের স্বাভাবিক পরিচালনাও মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।
রেলওয়ে চট্টগ্রাম থানার উপপরিদর্শক সহদেব কুমার সরকার জানান, ২০২৪ সাল থেকে এসব ঘটনায় ১২টি মামলা হয়েছে কিন্তু কোনো মামলাতেই কাউকে আটক বা গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়নি। রাতের বেলায় দ্রুতগামী ট্রেনে এ ধরনের ঘটনা বেশি হওয়ায় ঘটনাস্থল শনাক্ত করা কঠিন হয়ে পড়ে এবং অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ ও নিরাপত্তা বাহিনী সচেতনতা কার্যক্রম পরিচালনা করছে।