দক্ষিণাঞ্চলের কৃষকের জন্য সরকার নির্ধারিত ভর্তুকির ইউরিয়া ও টিএসপি সার নিত্যনতুন কৌশলে নদী ও সাগরপথে মিয়ানমারে পাচার হয়ে যাচ্ছে। ভোলা, চরফ্যাশন, মনপুরা ও হাতিয়ার ভৌগোলিক সুবিধাকে কাজে লাগিয়ে একশ্রেণির অসাধু ডিলার প্রতিনিধি ও পাচারকারী সিন্ডিকেট এই অবৈধ তৎপরতা চালাচ্ছে। এর ফলে রাষ্ট্রীয় সম্পদ লুটপাটের পাশাপাশি জাতীয় খাদ্য নিরাপত্তাও হুমকির মুখে পড়ছে।
বাফার গুদামে সার মজুত থাকা সত্ত্বেও কৃত্রিম সংকট তৈরি করে কৃষকদের কাছ থেকে অতিরিক্ত দাম নেওয়া হচ্ছে। সময়মতো সার না পাওয়ায় মাঠেই ফসলের আবাদ ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে এবং প্রান্তিক কৃষকরা চরম বিপাকে পড়ছেন। ডিলারদের পরিবর্তে নামসর্বস্ব প্রতিনিধিদের মাধ্যমে গুদাম থেকে সার উত্তোলনের অলিখিত সুযোগই মূলত এই দুর্নীতির গোড়াপত্তন করেছে।
এই পরিস্থিতি প্রতিরোধে সরকারের সমন্বিত ও জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করা জরুরি হয়ে পড়েছে। প্রতিনিধিদের মাধ্যমে সার উত্তোলন বন্ধ করা, জড়িত ডিলারদের লাইসেন্স তাৎক্ষণিক বাতিল করে শাস্তির আওতায় আনা এবং বাফার গুদাম থেকে খুচরা পর্যায় পর্যন্ত কিউআর কোডসহ ডিজিটাল ট্র্যাকিং ব্যবস্থা চালুর দাবি উঠেছে।
একই সঙ্গে উপকূলীয় নৌপথ ও ট্রানজিট পয়েন্টগুলোতে নৌপুলিশ ও কোস্টগার্ডের যৌথ আকস্মিক তল্লাশি বাড়ানো প্রয়োজন। এছাড়া নজরদারিতে গাফিলতি বা পাচারে সহায়তার অভিযোগ থাকা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের বিরুদ্ধেও কঠোর বিভাগীয় ব্যবস্থা নিয়ে কৃষকের স্বার্থ রক্ষার তাগিদ দেওয়া হয়েছে।