সব বৈধ রিক্রুটিং এজেন্সির সমান অংশগ্রহণের মাধ্যমে সিন্ডিকেটমুক্ত, স্বচ্ছ ও কম খরচে মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার দ্রুত উন্মুক্ত করার দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব ইন্টারন্যাশনাল রিক্রুটিং এজেন্সিজ (বায়রা)। বুধবার (১৯ আগস্ট) ঢাকার একটি হোটেলে বায়রার ব্যানারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনটির সাবেক যুগ্ম মহাসচিব ফখরুল ইসলাম এ দাবি জানান।
সংবাদ সম্মেলনে ফখরুল ইসলাম স্পষ্ট করেন যে তারা শ্রমবাজার বন্ধ রাখার পক্ষে নন, তবে কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর একচেটিয়া নিয়ন্ত্রণ মেনে নেওয়া হবে না। তিনি অভিযোগ করেন, আবারও মাত্র ২৫টি এজেন্সিকে কেন্দ্র করে সিন্ডিকেট তৈরির চেষ্টা চলছে। তালিকায় অন্তর্ভুক্তির জন্য পাঁচ মিলিয়ন রিঙ্গিত বা প্রায় ১৭ কোটি টাকা এবং কর্মীপ্রতি পাঁচ হাজার রিঙ্গিত নেওয়ার অভিযোগ তুলে তিনি এর নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠু তদন্ত দাবি করেন।
তিনি আরও বলেন, অতীতে ২০১৬ ও ২০২২ সালে সীমিত এজেন্সিনির্ভর ব্যবস্থার কারণে উচ্চ অভিবাসন ব্যয় ও অনিয়মে শ্রমবাজার বন্ধ হয়েছিল এবং সরকার ইতোমধ্যে ৪৯টি লাইসেন্স বাতিল করেছে। অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে পাঠানো ৪২৩টি এজেন্সির তালিকার প্রসঙ্গ টেনে তিনি প্রশ্ন রাখেন, শর্ত শিথিল করা হলে প্রায় দুই হাজার বৈধ এজেন্সিকে আবেদনের সুযোগ না দিয়ে কেন বঞ্চিত করা হলো।
সংকট নিরসনে সংবাদ সম্মেলনে পাঁচ দফা দাবি উপস্থাপন করা হয়। দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে নেপালের মতো সব বৈধ এজেন্সিকে কর্মী পাঠানোর সুযোগ দেওয়া, বৈষম্যমূলক এজেন্সি সিলেকশন বন্ধ করা, সমঝোতা স্মারকের (MOU) বিতর্কিত ধারা সংশোধন, সীমিত এজেন্সির ক্ষেত্রে বোয়েসেলের (BOESL) মাধ্যমে ওয়ান স্টপ সার্ভিস এবং প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংকের তিন কিস্তিতে খরচ পরিশোধের ব্যবস্থা করা।
উক্ত সংবাদ সম্মেলনে বায়রার সাবেক সিনিয়র সহ-সভাপতি রিয়াজুল ইসলাম, সাবেক যুগ্ম মহাসচিব এম এ ছালাম, মফিজ উদ্দিন, আকবর হোসেন মঞ্জু, নুরুল আমিন, সাবেক সহ-সভাপতি মজিবুর রহমান মজু, সাবেক ইসি সদস্য মোহাম্মদ আলী এবং ব্যবসায়ী শাখাওয়াত হোসেন লিন্টু, মাহাবুবুল করিম সিদ্দিকী জাফর, কাজী এম এ কাসেম ও মোহাম্মদ মোজাম্মেল হকসহ অন্যান্য নেতারা উপস্থিত ছিলেন।