সংযুক্ত আরব আমিরাত ইরানের ওপর অনির্দিষ্টকালের জন্য সব ধরনের বাণিজ্য নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, এই অঞ্চলে শান্তি ও নিরাপত্তা বিঘ্নিতকারী সাম্প্রতিক উত্তেজনার পরিপ্রেক্ষিতে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত ইরানের সঙ্গে যাবতীয় বাণিজ্যিক ও আর্থিক লেনদেন স্থগিত থাকবে।
আমিরাতের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় দাবি করেছে, তারা ইরান থেকে নিক্ষিপ্ত দুটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র শনাক্ত করেছে, যা মূলত সামুদ্রিক নৌ চলাচলকে লক্ষ্য করে ছোঁড়া হয়েছিল। তবে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই এই অভিযোগ সম্পূর্ণ 'ভিত্তিহীন' বলে প্রত্যাখ্যান করেছেন এবং চলমান সংঘাতের মধ্যে একে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের 'ফলস ফ্ল্যাগ অপারেশন' বলে আখ্যায়িত করেছেন।
ওবজারভেটরি অব ইকোনমিক কমপ্লেক্সিটির (ওইসি) তথ্য অনুযায়ী, ২০২৩ সালে উভয় দেশের মধ্যে মোট বাণিজ্যের পরিমাণ ছিল ৬২০ কোটি ডলার, যার মধ্যে আমিরাত রপ্তানি করেছিল প্রায় ৫৮০ কোটি ডলারের পণ্য। আনুষ্ঠানিক বাণিজ্যের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা এড়িয়ে পণ্য আমদানি ও অর্থ লেনদেনের জন্য ইরান দীর্ঘ সময় ধরে দুবাইকে একটি গুরুত্বপূর্ণ অনানুষ্ঠানিক বাণিজ্যিক পথ হিসেবে ব্যবহার করে আসছিল।
মার্কিন সাবেক সহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও অবসরপ্রাপ্ত জেনারেল মার্ক কিমিট জানিয়েছেন, আমিরাতের এই পদক্ষেপ যে কোনো মার্কিন নিষেধাজ্ঞার চেয়েও ইরানের অর্থনীতির জন্য বেশি ক্ষতিকর হতে পারে। তিনি উল্লেখ করেন, ইরান তার প্রয়োজনীয় আমদানির প্রায় এক-তৃতীয়াংশের জন্য দুবাইয়ের ওপর নির্ভরশীল, যা দেশটির জন্য একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক পথ বন্ধ করে দিল।