যুক্তরাষ্ট্রের সাথে সমঝোতা স্মারক বা এমওইউ-এর মেয়াদ শেষ হওয়ায় তেহরান মার্কিন বাহিনীর বিরুদ্ধে আরও আক্রমণাত্মক কৌশল গ্রহণের ইঙ্গিত দিয়েছে। আইআরজিসির নতুন কমান্ডার-ইন-চিফ হিসেবে মেজর জেনারেল আহমেদ ভাহিদিকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে, যিনি সর্বোচ্চ প্রতিরোধ ও শক্তিশালী আক্রমণের মিশ্রণ ঘটাবেন। ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানে হামলা চালানোর পর দুই পক্ষের মধ্যে তীব্র লড়াই শুরু হয় এবং দেশটির সামরিক বাহিনী শত্রুকে পরাস্ত করতে সক্ষম হয়।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প শুক্রবার দাবি করেছেন যে ইরান যুদ্ধে পরাজিত হয়েছে এবং হরমুজ প্রণালীকে শীঘ্রই মার্কিন ভূখণ্ড ঘোষণা করা হবে। এর জবাবে ইরানের সেনা প্রধান আমির হাতামি ঘোষণা করেছেন যে, ইরানি মাটিতে স্থল অভিযানে জড়িত কোনো মার্কিন সেনাকে হত্যা বা বন্দী করতে পারলে ৩০ হাজার মার্কিন ডলার পুরস্কার দেওয়া হবে। এছাড়া কোনো নারী এই বীরত্ব দেখালে তাকে দ্বিগুণ পুরস্কার দেওয়া হবে বলে তিনি যোগ করেন।
সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের সচিব মোহসেন রেজায়ী জানিয়েছেন যে, ট্রাম্প প্রশাসন হয়তো ইরানি ভূখণ্ডে স্থল অভিযানের কথা বিবেচনা করেছিল কিন্তু অপরিপক্ব পরিকল্পনার কারণে তা থেকে বিরত থাকে। জুলাই মাসের দুই সপ্তাহের সংঘর্ষের সময় মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড তেহরান বা উত্তর ইরানে হামলা না চালিয়ে ১৫টি প্রদেশের প্রায় ৫০টি শহরে হামলা চালায়। হরমুজ প্রণালীর নিয়ন্ত্রণ নেওয়া এবং ইসফাহানের পারমাণবিক সুবিধাকেন্দ্রে পৌঁছানোর প্রস্তুতি হিসেবেই এই বিমান হামলা চালানো হয়েছিল বলে তিনি মনে করেন।
ইরানি কর্তৃপক্ষ এবং সামরিক কমান্ডাররা জানিয়েছেন যে, দক্ষিণ ইরানের দ্বীপপুঞ্জ এবং উপকূলীয় এলাকাগুলো রক্ষায় বিভিন্ন দৃশ্যপটের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। খর্গ দ্বীপের গুরুত্বপূর্ণ তেল রপ্তানি টার্মিনালগুলোর সুরক্ষায় হরমুজ প্রণালীর আশেপাশের ইরানি ভূখণ্ডে দ্রুত প্রতিক্রিয়শীল ইউনিট মোতায়েন করা হয়েছে। সেনাবাহিনী ও আইআরজিসির শীর্ষ কর্মকর্তারা স্পষ্ট করে বলেছেন যে, আমেরিকানরা কোনো দ্বীপে প্রবেশ করলে তাদের কঠোরভাবে প্রতিহত করা হবে।
আইআরজিসির রাজনৈতিক প্রধান ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ইয়াদোল্লাহ জাভানি জানিয়েছেন যে, ওয়াশিংটন জুন মাসে স্বাক্ষরিত এমওইউ-এর প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন না করা পর্যন্ত হরমুজ প্রণালী পুরোপুরি পুনরায় চালু হবে না। যুদ্ধবিরতি সত্ত্বেও হরমুজ প্রণালীর নিয়ন্ত্রণ নিয়ে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে উত্তেজনা অব্যাহত রয়েছে। জাভানি উল্লেখ করেছেন যে, শত্রুরা যুদ্ধ শুরু করায় তাদের প্রচেষ্টা প্রতিরক্ষামূলক ছিল, যা এখন আক্রমণাত্মক রূপ নিতে পারে।