বন্ধ করুন
ভারী বৃষ্টি ও জোয়ারে ফের ডুবল চট্টগ্রাম, চরম দুর্ভোগ
ডিজাইন:
100%
ইপেপার সংস্করণ
Mahakallol News | বাংলাদেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ
দৈনিক পত্রিকা


দৈনিক পত্রিকা ২৯ আগস্ট ২০২৬ ইপেপার সংস্করণ
Mahakallol News | বাংলাদেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ

ইপেপার সংস্করণ ২৯ আগস্ট ২০২৬ দৈনিক পত্রিকা

Mahakallol News | বাংলাদেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ


ভারী বৃষ্টি ও জোয়ারে ফের ডুবল চট্টগ্রাম, চরম দুর্ভোগ


মহাকল্লোল নিউজ ডেস্ক
মহাকল্লোল নিউজ ডেস্ক
প্রকাশ: ১৮ আগস্ট ২০২৬ প্রিন্ট:
ভারী বৃষ্টি ও জোয়ারে ফের ডুবল চট্টগ্রাম, চরম দুর্ভোগ
ভারী বৃষ্টি ও জোয়ারে ফের ডুবল চট্টগ্রাম, চরম দুর্ভোগ
Featured Image

টানা ভারী বর্ষণ এবং জোয়ারের পানিতে আবারও প্লাবিত হয়েছে বন্দরনগরী চট্টগ্রামের বিস্তীর্ণ এলাকা। এতে তীব্র জলাবদ্ধতা তৈরি হয়ে স্বাভাবিক জীবনযাত্রা অচল হয়ে পড়েছে এবং চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন নগরবাসী। কাতালগঞ্জ, বাকলিয়া, চকবাজার, নিউমার্কেট, রিয়াজউদ্দিন বাজার, কাপাসগোলা, আগ্রাবাদ, হালিশহর ও চান্দগাঁওসহ বিভিন্ন এলাকায় হাঁটু থেকে কোমর পর্যন্ত পানি জমে যায়।

সকালে কর্মস্থলে বের হয়ে চরম দুর্ভোগের শিকার হন সাধারণ মানুষ। কাতালগঞ্জের বাসিন্দা আবদুল আজিজ জানান, জুলাই মাসের মতোই টানা ভোগান্তির পুনরাবৃত্তি হচ্ছে এবং প্রতি বর্ষায় এমন দুর্দশা হলেও কোনো স্থায়ী সমাধান মিলছে না। চকবাজারের চক সুপার মার্কেটের নিচতলায় পানি ঢুকে ব্যবসায়ীদের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। ব্যবসায়ী মো. মুন্না জানান, নোংরা পানি ঢুকে তার দোকানের প্রায় দুই লাখ টাকার মালামাল নষ্ট হয়েছে। একই সঙ্গে চলমান গ্যাস সংকটের কারণে সড়কে সিএনজিচালিত অটোরিকশা কম থাকায় এবং আখতারুজ্জামান চৌধুরী ফ্লাইওভারে পানি জমে যান চলাচল ব্যাহত হওয়ায় পরিবহন সংকট প্রকট আকার ধারণ করে।

পতেঙ্গা আবহাওয়া অফিসের তথ্য অনুযায়ী, আজ সকাল ৯টা পর্যন্ত বিগত ২৪ ঘণ্টায় ১৮৯ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে, যার মধ্যে সকাল ৬টা থেকে ৯টা পর্যন্ত তিন ঘণ্টাতেই বৃষ্টি হয়েছে ৮১ মিলিমিটার। আবহাওয়া পূর্বাভাস কর্মকর্তা মো. ইসমাইল ভূঁইয়া জানিয়েছেন, লঘুচাপের সক্রিয়তা ও মৌসুমি বায়ুর প্রভাবে এই বৃষ্টিপাত আরও দুই থেকে তিন দিন স্থায়ী হতে পারে।

চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (সিডিএ), পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) ও চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন (চসিক) যৌথভাবে ১৪ হাজার কোটি টাকারও বেশি ব্যয়ে চারটি বড় নিষ্কাশন প্রকল্প বাস্তবায়ন করলেও কোনোটিই নির্ধারিত সময়ে শেষ হয়নি। ২০১৭ সালে শুরু হওয়া সিডিএ'র ৩৬টি প্রাথমিক খাল সংস্কার প্রকল্পের ব্যয় ৫,৬১৬ কোটি টাকা থেকে বেড়ে ৮,৬২৬ কোটি টাকা হয়েছে, যার কাজ বর্তমানে ৯৫ শতাংশ শেষ হয়েছে বলে জানানো হয়। বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ৩৪ ইঞ্জিনিয়ার কনস্ট্রাকশন ব্রিগেডের মাধ্যমে পরিচালিত এই প্রকল্পের কাজ গত এপ্রিলের শেষভাগ থেকে স্থগিত রয়েছে।

নির্মাণকাজের জন্য দেওয়া অস্থায়ী মাটির বাঁধের কারণে পানি জমে জলাবদ্ধতা তীব্র হলে গত ২৯ এপ্রিল স্থানীয়দের প্রতিবাদের মুখে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় বাঁধগুলো অপসারণের নির্দেশ দেয়। এরপর থেকে হিজড়া খাল, জামাল খান খাল ও চাক্তাই খালের কাজ আগামী অক্টোবর পর্যন্ত বন্ধ রয়েছে। সিডিএ'র নির্বাহী প্রকৌশলী আহমেদ মঈনুদ্দীন বলেন, মূল খালগুলোর মাত্র ১৫ থেকে ২০ দিনের কাজ বাকি ছিল, যা অসময়ের বৃষ্টিতে ব্যাহত হয়েছে। তবে প্রকল্প পরিচালক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. মহসিনুল হক চৌধুরীর মতে, প্রকল্পের পুরো কাজ শেষ হলে নগরীর জলাবদ্ধতা প্রায় ৭৫ শতাংশ কমে আসবে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, উন্নয়ন প্রকল্পগুলোতে চট্টগ্রামের ভৌগোলিক বাস্তবতা যথাযথভাবে বিবেচনায় নেওয়া হয়নি। ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন বাংলাদেশ (আইইবি) চট্টগ্রাম কেন্দ্রের সাবেক সভাপতি প্রকৌশলী দেলোয়ার মজুমদার জানান, জোয়ারের সময় সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা ৫ মিটারের বেশি বেড়ে যায়, অথচ নগরীর কিছু এলাকা সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে মাত্র ২ থেকে ৩ মিটার উঁচুতে। তিনি উল্লেখ করেন, ঐতিহাসিক ১০৪টি খালের মধ্যে বর্তমানে টিকে থাকা ৫৭টি খালের মাত্র ৩৬টিতে কাজ করা হচ্ছে। ১৯৯৫ সালের মাস্টারপ্ল্যানে প্রস্তাবিত জলাধার তৈরি না করে কেবল খাল সংস্কার করলে নগরীকে দীর্ঘমেয়াদে জলাবদ্ধতামুক্ত রাখা অসম্ভব।