বাংলাদেশে প্রতি ১ হাজার জীবিত জন্মে নবজাতক মৃত্যুর জাতীয় গড় ২০ হলেও রংপুর বিভাগে এ সংখ্যা ৩০। বাংলাদেশ ডেমোগ্রাফিক অ্যান্ড হেলথ সার্ভে (বিডিএইচএস) ২০২২ অনুযায়ী, জাতীয় গড়ের তুলনায় রংপুরে নবজাতক মৃত্যুর হার ৫০ শতাংশ বেশি। একই সঙ্গে এ অঞ্চলে কিশোরী গর্ভধারণ ও বাল্যবিবাহের হারও বেশি।
সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা জানান, গর্ভকালীন ও প্রসবকালীন সেবার ঘাটতি, কার্যকর রেফারেল ব্যবস্থার দুর্বলতা এবং স্বাস্থ্যসেবায় সীমিত প্রবেশাধিকারের কারণে রংপুর অঞ্চলে মা ও নবজাতকের স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়ছে। এ পরিস্থিতিতে সেবার মান ও সচেতনতা বাড়াতে সোমবার রংপুরের চন্দর পাট ইউনিয়নের একটি স্বাস্থ্যকেন্দ্র পরিদর্শন এবং পরে নগরের সেন্ট্রাল কনভেনশন হলে এক সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।
‘গণমাধ্যম প্রচারণার আওতায় মিডিয়া সেলিব্রিটির মাঠপর্যায়ের পরিদর্শন’ কর্মসূচির অংশ হিসেবে স্বাস্থ্যকেন্দ্রটি পরিদর্শন করেন অভিনেত্রী মাসুমা রহমান নাবিলা। তিনি স্বাস্থ্যকেন্দ্রটির সেবাদান ব্যবস্থা, প্রসবকক্ষের সরঞ্জাম এবং মা ও নবজাতকের যত্নসংক্রান্ত নির্দেশনার প্রশংসা করেন। নাবিলা বলেন, বিনামূল্যে প্রয়োজনীয় সেবা পাওয়ায় স্বাস্থ্যকেন্দ্রটিতে দূরদূরান্ত থেকেও মানুষ সেবা নিতে আসছেন।
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, মাতৃ ও নবজাতকের স্বাস্থ্যঝুঁকি কমাতে ‘জননী’ প্রকল্পের আওতায় রংপুর ও লালমনিরহাটের ৪০টি ইউনিয়নে সচেতনতামূলক নানা কার্যক্রম চলছে। প্রকল্পের টেকনিক্যাল স্পেশালিস্ট জাহানারা হৃদিতা জানান, স্থানীয় পর্যায়ে সচেতনতা বাড়াতে বিভিন্ন বয়সী মানুষদের প্রশিক্ষণ দিয়ে ‘জননী বন্ধু’ নেটওয়ার্ক তৈরি করা হয়েছে, যা বাল্যবিবাহ প্রতিরোধ এবং মাতৃ ও নবজাতকের যত্ন নিশ্চিতে ভূমিকা রাখছে।
স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সার্বিক তত্ত্বাবধানে পরিচালিত ‘জননী’ প্রকল্পে অর্থায়ন করছে কোইকা। এতে সেভ দ্য চিলড্রেন কারিগরি সহায়তা এবং আরডিআরএস বাংলাদেশ বাস্তবায়ন সহযোগী হিসেবে কাজ করছে। পাশাপাশি আইসিডিডিআর,বি গবেষণা সহযোগী হিসেবে যুক্ত রয়েছে। ২০১৩ সালের ১ মার্চ শুরু হওয়া এ প্রকল্পের মেয়াদ ২০২৭ সালের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত।