ঢাকা ও নারায়ণগঞ্জের বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পরিচয়ে ডাকাতি ও ছিনতাই চক্রের সাত সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। শুক্র ও শনিবার রাজধানীর কামরাঙ্গীরচর, উত্তরখান, বিমানবন্দর, ধানমন্ডি এবং নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ থেকে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। এ সময় তাদের কাছ থেকে অস্ত্র, গোলাবারুদ, ভুয়া পোশাক ও ডাকাতিতে ব্যবহৃত একটি গাড়ি উদ্ধার করা হয়েছে।
গ্রেপ্তাররা হলেন চক্রের মূলহোতা তৈয়ব আলী সর্দার, পাভেল সর্দার, সাইফুর রহমান, রাব্বি আলম, ইমরান হোসেন ভুঁইয়া, নুরুল ইসলাম ও মো. ইসমাইল। তাদের মধ্যে পাভেল নৌবাহিনী থেকে চাকরিচ্যুত পেটি অফিসার এবং রাব্বি সেনাবাহিনী থেকে চাকরিচ্যুত সৈনিক।
রোববার ডিএমপির গণমাধ্যম কেন্দ্রে এক সংবাদ সম্মেলনে অতিরিক্ত কমিশনার মোহাম্মদ ওসমান গণি জানান, চক্রটি দীর্ঘদিন ধরে গোয়েন্দা পুলিশ ও র্যাবের পরিচয় দিয়ে গাড়িতে চড়ে ছিনতাই ও ডাকাতি করে আসছিল। তারা পুলিশের নকল পোশাক এবং আসল ও নকল পিস্তল ব্যবহার করে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড চালাত। এমনকি পুলিশ যাতে তাদের ট্র্যাক করতে না পারে, সেজন্য তারা পকেট রাউটার ব্যবহার করত। তৈয়বের নামে সারাদেশে ৪৫টি ডাকাতি ও ছিনতাইয়ের মামলা রয়েছে।
শুক্রবার রাতে কামরাঙ্গীরচর থেকে তৈয়বকে গ্রেপ্তারের পর তার দেওয়া তথ্যে উত্তরখান থেকে পাভেলকে এবং বিমানবন্দর এলাকা থেকে অন্য পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে রূপগঞ্জে ইমরানের বোনের বাসা থেকে একটি বিদেশি পিস্তল, একটি ম্যাগাজিন ও ছয় রাউন্ড গুলি উদ্ধার করা হয়। এছাড়া ধানমন্ডি থেকে ডাকাতিতে ব্যবহৃত একটি ব্যক্তিগত গাড়ি এবং অন্য আসামিদের কাছ থেকে ওয়াকিটকি, হাতকড়া, র্যাব ও ডিবির পোশাক উদ্ধার করা হয়।
পুলিশ জানায়, গত মে মাসে যাত্রাবাড়ীতে এবং গত ১৩ জুলাই খিলক্ষেতের কুড়িল বিশ্বরোড উড়ালসড়কে ১২ লাখ টাকা ডাকাতির ঘটনাসহ সম্প্রতি একাধিক অপরাধে এই চক্রটি জড়িত ছিল বলে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে স্বীকার করেছে। চক্রের অন্য সদস্যদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।