ইরানের বন্দরগুলোতে অনির্দিষ্টকালের জন্য নৌ অবরোধ বজায় রাখা এবং দেশটিকে আরও অর্থনৈতিকভাবে বিচ্ছিন্ন করার হুমকি দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। দুই দেশের মধ্যে যুদ্ধবিরতি আলোচনা স্থবির হয়ে পড়ার প্রেক্ষাপটে মার্কিন অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট জানান, অর্থনৈতিক ইতিহাসে নজিরবিহীন ব্যবস্থা নেওয়ার ঘোষণা আগামী সপ্তাহে আসবে। একই সাথে হরমুজ প্রণালীতে অব্যাহত অবরোধের মাধ্যমে ইরানি বন্দরগুলোর সমস্ত কার্যক্রম বন্ধ রাখার হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে।
এদিকে হরমুজ প্রণালী এলাকায় নৌ অবরোধ অভিযানে নিয়োজিত যুক্তরাষ্ট্রের প্রধান বিমানবাহী রণতরী ইউএসএস আব্রাহাম লিংকনের অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতি নিয়ে গভীর উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। মার্কিন গণমাধ্যম নেভি টাইমস ও স্টারস অ্যান্ড স্ট্রাইপস জানিয়েছে, জাহাজে থাকা পাঁচ হাজারের বেশি সেনা ও নৌকর্মীর মানসিক স্বাস্থ্যের চরম অবনতি ঘটছে। আনাবেল লোমা নামের এক নাবিকের স্ত্রী জানান, অতিরিক্ত ক্লান্তির জেরে তার স্বামী জাহাজ থেকে সাগরে ঝাঁপ দেওয়ার চেষ্টা পর্যন্ত করেছিলেন।
এই ঘটনা মার্কিন আইনপ্রণেতাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের জন্ম দিয়েছে। ডেমোক্র্যাটিক সিনেটর রিচার্ড ব্লুমেন্থাল প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথকে এক চিঠিতে জানান, গত বছরের নভেম্বরে ক্যালিফোর্নিয়ার সান ডিয়েগো ত্যাগের পর কোনো বন্দরে না থেমে রণতরীটি রেকর্ড প্রায় সাত মাস ধরে সাগরে রয়েছে। অন্যদিকে সিনেট মাইনরিটি লিডার চাক শুমার এই পরিস্থিতি সামাল দিতে ব্যর্থ হওয়ায় প্রতিরক্ষামন্ত্রী হেগসেথকে অবিলম্বে বরখাস্ত করার দাবি জানিয়েছেন।
ক্যালিফোর্নিয়ার প্রতিনিধি মাইক লেভিনের নেতৃত্বে কয়েকজন আইনপ্রণেতা রণতরীতে বিশুদ্ধ পানির সংকট, জরুরি পণ্যের ঘাটতি এবং অস্বাস্থ্যকর পরিবেশের বিষয়ে নৌবাহিনীর ভারপ্রাপ্ত সচিব হাং কাও ও হেগসেথের কাছে জবাব চেয়েছেন। যদিও মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী এবং সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) এই অভিযোগগুলোকে ভিত্তিহীন বলে দাবি করেছে। সেন্টকম জানায়, ২৬০ দিনের বেশি সাগরে অবস্থানের পরও ক্রুরা দৃঢ় সংকল্পবদ্ধ এবং জাহাজে কোনো প্রাণহানির ঘটনা ঘটেনি।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, পরমাণু চালিত উন্নত প্রযুক্তির এই রণতরী দীর্ঘদিন বন্দরে রক্ষণাবেক্ষণ ছাড়া রাখলে এর সামরিক সক্ষমতা নষ্ট হয়। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দাবি অনুযায়ী ইরান অর্থনৈতিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে এবং গত ১৩ এপ্রিল অবরোধ শুরুর পর দেশটি তেল রাজস্বে অন্তত ৬ বিলিয়ন ডলার হারিয়েছে। তবে যুদ্ধজাহাজের দীর্ঘকালীন মোতায়েন খোদ মার্কিন নৌবাহিনীর জন্যই বড় ধরনের পরিচালনগত সংকট তৈরি করছে বলে সামরিক বিশ্লেষকরা মত দিয়েছেন।