যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান উত্তেজনা ও শান্তি আলোচনার প্রধান বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে কৌশলগত হরমোজ প্রণালী। এক্স হ্যান্ডলে এক পোস্টে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাকচি বলেন, প্রণালীতে ওয়াশিংটনের পদক্ষেপ একটি বড় ভুল হিসাব এবং ভুয়া খবরের চেয়েও ভুয়া গোয়েন্দা তথ্য খারাপ। ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোরের অধিভুক্ত বাসিজ অর্গানাইজেশনের কমান্ডার হোজ্জাতোলেসলম হোসেইন তায়েব গত বৃহস্পতিবার ফার্স নিউজ এজেন্সিকে জানান, প্রণালীটি বর্তমানে ইরানের সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ ও ব্যবস্থাপনায় রয়েছে।
গত ১৭ জুন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারক অনুযায়ী ৬০ দিন প্রণালীটি খোলা রাখার কথা থাকলেও জাহাজ চলাচল ও নিয়ন্ত্রণ নিয়ে মতবিরোধ দেখা দেয়। কাতার গত মঙ্গলবার জানিয়েছে, প্রণালীটি নিয়ে ইরান ও ওমানের মধ্যকার আলোচনা এক উন্নত পর্যায়ে পৌঁছেছে। কাতারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মাজেদ আল-আনসারি এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, মধ্যস্থতাকারী হিসেবে তারা যত দ্রুত সম্ভব হরমোজ প্রণালী পুনরায় খুলে দিতে চান।
পাকিস্তানও যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানকে আলোচনার টেবিলে ফিরিয়ে আনতে মধ্যস্থতার চেষ্টা চালাচ্ছে বলে মঙ্গলবার জানিয়েছে। গত মাসে মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স এবং ইরানের সংসদ স্পিকার মোহাম্মদ বাকের গালিবাফ ইসলামাবাদের বৈঠকে অংশ নিয়েছিলেন। এদিকে গত বুধবার মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেন যে জলপথটির ওপর যুক্তরাষ্ট্রের সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ রয়েছে, যা ইরান দৃঢ়ভাবে প্রত্যাখ্যান করেছে।
ইরানের সুপ্রিম ন্যাশনাল জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদ হরমোজ প্রণালী সম্পূর্ণ খোলার আগে যুক্তরাষ্ট্রকে ছয়টি শর্ত পূরণের কথা জানিয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে মার্কিন হুমকি ও নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার, নৌ অবরোধ তুলে নেওয়া এবং ইরানের অবরুদ্ধ সম্পদ অবমুক্ত করা। হোয়াইট হাউসে ট্রাম্প সোমবার সাংবাদিকদের বলেন, তার প্রশাসন ইরানের কারণে গত ৫০ বছরের ক্ষতির ক্ষতিপূরণ চাইবে। আগামী দিনে এই সংঘাতের অবসান ঘটাতে দুই পক্ষের সমঝোতা অপরিহার্য বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।