প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে বিদায়ী সাক্ষাতের পর আবেগঘন বার্তা দিয়েছেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিব। দীর্ঘ সময় দায়িত্ব পালনে সহযোগিতার জন্য বিএনপির শীর্ষ নেতৃত্ব, ছাত্রদলের নেতাকর্মী এবং বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের নেতৃবৃন্দের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন তিনি।
বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) রাতে রাজধানীর গুলশানে বিএনপির চেয়ারম্যানের রাজনৈতিক কার্যালয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন ছাত্রদলের শীর্ষ পাঁচ নেতা। সাক্ষাতের পর নিজের যাচাইকৃত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পাতায় একটি পোস্ট দেন রাকিব।
পোস্টের শুরুতে মহান আল্লাহর প্রতি শুকরিয়া আদায় করে রাকিব লেখেন, ‘অনেক বেশি সম্মান ও সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে জীবনের শ্রেষ্ঠ অধ্যায়ের পরিসমাপ্তি ঘটতে চলেছে।’
দীর্ঘ সময় ছাত্রদল কেন্দ্রীয় সংসদ ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে দায়িত্ব পালনের সুযোগ দেওয়ায় বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এবং প্রয়াত দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান তিনি। একই সঙ্গে বিএনপির সদ্য বিদায়ী মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, ছাত্রবিষয়ক সম্পাদক রকিবুল ইসলাম বকুল, দলের শীর্ষ নেতৃবৃন্দ ও ছাত্রদলের সাবেক শীর্ষ নেতাদের প্রতিও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।
ছাত্রদল কেন্দ্রীয় সংসদ এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়, শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়, বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়সহ বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়, মেডিকেল কলেজ ও কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের নেতাকর্মীদের সহযোগিতার কথাও উল্লেখ করেন রাকিব।
ঢাকার পাঁচ কলেজ ও চার মহানগরের নেতাকর্মীদের বিশেষভাবে ধন্যবাদ জানিয়ে তিনি বলেন, তাদের শ্রম ও ঘামে রাজপথের কর্মসূচিগুলো সফল হয়েছে। পাশাপাশি নানা ষড়যন্ত্রও তারা দক্ষতার সঙ্গে মোকাবিলা করেছেন।
ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের নিয়ে গর্ব প্রকাশ করে রাকিব বলেন, দায়িত্ব পালনকালে কেন্দ্রীয় সংসদ, বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজ পর্যায়ের নেতাদের নামে কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত খবরের শিরোনাম হয়নি। আর্থিক সংকটের মধ্যেও তারা সততা ও নিষ্ঠার সঙ্গে নিজেদের ইউনিট পরিচালনা করেছেন এবং অধীনস্থ নেতাকর্মীদেরও নীতি, আদর্শ ও সততার পথে চলতে উৎসাহিত করেছেন।
শিক্ষার্থীদের প্রতি নিজের দায়িত্ববোধের কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, ক্যাম্পাসগুলোতে ইতিবাচক ছাত্ররাজনীতির বিকাশে তিনি ব্যক্তিগতভাবে কাজ করেছেন। ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের কারণে কোনো সাধারণ শিক্ষার্থী যেন অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতির মুখোমুখি না হন, সে বিষয়েও তিনি সতর্ক ছিলেন।
দলের বাইরের সাধারণ শিক্ষার্থীরা বিভিন্ন সমস্যা নিয়ে তার কাছে এলে নিজের অবস্থান থেকে তা সমাধানের চেষ্টা করেছেন বলেও জানান রাকিব। পাশাপাশি ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনে ভ্রাতৃপ্রতিম ছাত্র সংগঠনগুলোর নেতাদের প্রতিও কৃতজ্ঞতা জানান তিনি।
রাকিব-নাসির কমিটির সাফল্যের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সঙ্গে সমন্বয় করে কর্মসূচি প্রণয়ন এবং রাজপথে কার্যকর ভূমিকা পালন ছিল তাদের কমিটির অন্যতম প্রধান সাফল্য।
তিনি আরও বলেন, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শত শত সংঘবদ্ধ হামলা মোকাবিলা করতে হয়েছে। পাশাপাশি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ধারাবাহিক হয়রানি উপেক্ষা করেও নেতৃত্ব দিতে হয়েছে।
নিজের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা জানিয়ে রাকিব লেখেন, ‘একটা নতুন জীবন শুরু করতে চাই। নিজেকে আরও বেশি পরিশুদ্ধ, মানবিক ও সৎ মানুষ হিসেবে গড়তে চাই।’
দায়িত্ব পালনের সময়ে নিজের ভুলত্রুটির কথাও স্বীকার করেন তিনি। রাকিব বলেন, ‘ভুলত্রুটির ঊর্ধ্বে কেউ নয়।’ তার কোনো আচরণে কেউ কষ্ট পেয়ে থাকলে তা ক্ষমাসুন্দর দৃষ্টিতে দেখার অনুরোধ জানান তিনি।
পোস্টের শেষাংশে ছাত্রদলের আসন্ন নতুন কমিটিকে সবাই সাদরে গ্রহণ করবেন বলে প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন রাকিবুল ইসলাম রাকিব।