বন্ধ করুন
আখেরি চাহার শোম্বা: প্রচলিত রীতি ও শরিয়তের বাস্তব মাপকাঠি
ডিজাইন:
100%
ইপেপার সংস্করণ
Mahakallol News | বাংলাদেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ
দৈনিক পত্রিকা


দৈনিক পত্রিকা ১৫ অক্টোবর ২০২৬ ইপেপার সংস্করণ
Mahakallol News | বাংলাদেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ

ইপেপার সংস্করণ ১৫ অক্টোবর ২০২৬ দৈনিক পত্রিকা

Mahakallol News | বাংলাদেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ


আখেরি চাহার শোম্বা: প্রচলিত রীতি ও শরিয়তের বাস্তব মাপকাঠি


মহাকল্লোল নিউজ ডেস্ক
মহাকল্লোল নিউজ ডেস্ক
প্রকাশ: ১৩ আগস্ট ২০২৬ প্রিন্ট:
আখেরি চাহার শোম্বা: প্রচলিত রীতি ও শরিয়তের বাস্তব মাপকাঠি
আখেরি চাহার শোম্বা: প্রচলিত রীতি ও শরিয়তের বাস্তব মাপকাঠি
Featured Image

উপমহাদেশের মুসলিম সমাজে দীর্ঘদিন ধরে পরিচিত একটি ধর্মীয় ও সামাজিক রীতি 'আখেরি চাহার শোম্বা'। ফারসি ভাষায় ‘আখেরি’ শব্দের অর্থ শেষ এবং ‘চাহার শোম্বা’ অর্থ বুধবার, অর্থাৎ সফর মাসের শেষ বুধবার। বাংলাদেশ, ভারত ও পাকিস্তানসহ বিভিন্ন অঞ্চলে দিনটিতে নেক আমল, দান-সদকা, সামাজিক আপ্যায়ন ও নফল ইবাদতের বিশেষ প্রচলন দেখা যায়।

সাধারণত রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর শেষ অসুস্থতার সময় কিছুটা সুস্থতা অনুভবের স্মৃতিকে কেন্দ্র করেই প্রচলিত ঐতিহ্যে দিনটি উদযাপন করা হয়। তবে কোরআন ও সহিহ হাদিসের নির্ভরযোগ্য বর্ণনায় সফরের শেষ বুধবারকে কোনো নির্দিষ্ট ধর্মীয় উৎসব বা বিশেষ ইবাদতের দিন হিসেবে নির্ধারণ করার দলিল পাওয়া যায় না। এছাড়া সফর মাসকে অশুভ মনে করার জাহেলি কুসংস্কারকেও সহিহ বুখারি ও সহিহ মুসলিমে প্রত্যাখ্যান করা হয়েছে।

ইসলামী গবেষকদের মতে, এ দিনে অসহায়কে সাহায্য করা, কোরআন তিলাওয়াত করা বা সাধারণ নফল ইবাদত নিষিদ্ধ নয়। তবে নির্দিষ্ট চার রাকাত নামাজ, বিশেষ রোজা, সংখ্যাভিত্তিক ওজিফা কিংবা নির্দিষ্ট কোনো আমলকে 'এই দিনের বিশেষ শরিয়তি সুন্নাহ' মনে করার জন্য নববী প্রমাণের প্রয়োজন। চার মাযহাবের কোনো ইমাম কিংবা সুন্নাহর ভিত্তিতে নির্দিষ্ট এই আমলগুলোর নির্ভরযোগ্যতা প্রমাণিত হয়নি।

বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ অনুযায়ী, আখেরি চাহার শোম্বা নিয়ে একপেশে অবস্থান না নিয়ে ভারসাম্যপূর্ণ দৃষ্টিভঙ্গি বজায় রাখা জরুরি। একদিকে যেমন ভিত্তিহীন প্রথা বা অশুভ বিশ্বাসের কুসংস্কার এড়িয়ে চলা উচিত, অন্যদিকে সাধারণ দান-সদকা ও ভালো কাজ বন্ধ না করে রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর প্রমাণিত সুন্নাহ অনুসরণে জীবন গড়ে তোলাই ভালোবাসার প্রকৃত পরিচয়।