রাজধানীতে সিএনজি রিফুয়েলিং স্টেশনগুলোতে গ্যাস সংকট তীব্র আকার ধারণ করেছে। পাম্পে পাম্পে ঘুরেও কাঙ্ক্ষিত গ্যাস না পেয়ে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন চালকরা। অধিকাংশ পাম্প বন্ধ থাকায় খোলা থাকা হাতেগোনা কয়েকটি স্টেশনে কিলোমিটারজুড়ে দেখা দিয়েছে গাড়ির দীর্ঘ সারি। বুধবার (১২ আগস্ট) সরেজমিনে ঘুরে ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে থেকেও মাত্র ২০ থেকে ১০০ টাকার গ্যাস পাওয়ার চরম ভোগান্তির চিত্র দেখা যায়।
সরেজমিনে জানা গেছে, মেরুল বাড্ডার জামান সিএনজি স্টেশন, মধ্য বাড্ডার সিএনজি স্টেশন এবং তেজগাঁওয়ের আকিজ সিএনজিসহ বেশ কয়েকটি পাম্পে সরবরাহ সম্পূর্ণ বন্ধ রয়েছে। কুড়িল বিশ্বরোড থেকে বিমানবন্দর সড়ক পর্যন্ত কেবল খিলক্ষেতের পাম্পটি চালু ছিল। অন্যদিকে মালিবাগ, কারওয়ান বাজার এফডিসি গেট, পরিবাগ ও মগবাজারের পাম্পগুলোতে গ্যাস দেওয়া হলেও হাজিপাড়া ও মগবাজারে এক কিলোমিটার বিস্তৃত লাইনের কারণে মূল সড়কে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়।
চালকরা জানান, খোলা পাম্পে প্রেশার না থাকায় ১৫০০ সিসির প্রাইভেট কারে সর্বোচ্চ ১০০ টাকা এবং সিএনজিতে ৫০ থেকে ৬০ টাকার বেশি গ্যাস মিলছে না; এমনকি অনেক সিএনজিতে মাত্র ২০ টাকার গ্যাস ঢুকছে। আড়াই ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে বেলা সাড়ে ১১টায় এফডিসি গেটের পাম্প থেকে মাত্র ৬০ টাকার গ্যাস পাওয়ার কথা জানান আনোয়ার নামের এক চালক। এছাড়া হাজিপাড়া পাম্পের লাইনে দাঁড়ানো সিএনজি চালক ইব্রাহিম বলেন, “অধিকাংশ পাম্প বন্ধ। কোথায় গ্যাস দিচ্ছে তা জানতে এক পাম্প থেকে আরেক পাম্পে দৌড়াদৌড়ি করছি। মেরুল বাড্ডায় গ্যাস নাই শুনে হাজিপাড়া পাম্পে আসছি, কিন্তু এখানে এক কিলোমিটারের দীর্ঘ লাইন। বাধ্য হয়ে এই লাইনেই দাঁড়িয়ে আছি।”
প্রাইভেটকার চালক সোহেল রানা আক্ষেপ করে বলেন, “দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষার পর ১০০ টাকার গ্যাস পেলাম। ১০০ টাকার গ্যাসে ১৫০০ সিসির গাড়ি কতক্ষণ চলবে?” চালক ইউনুস বলেন, “এভাবে চলতে থাকলে চুক্তি বা দৈনিক জমার ভিত্তিতে যারা গাড়ি চালাই, তাদের না খেয়ে মরতে হবে। দেশে এখন গ্যাস-বিদ্যুৎ সবকিছুর হাহাকার চলছে।” দ্রুত পরিস্থিতির উন্নতি না হলে চালকদের রুটি-রুজি বন্ধ হয়ে চরম সামাজিক ও অর্থনৈতিক সংকট তৈরি হবে বলে আশঙ্কা ভুক্তভোগীদের।
জাতীয় লাইনে তীব্র প্রেশার সংকট থাকায় চাহিদামতো গ্যাস দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না বলে জানান পাম্প কর্মীরা। তেজগাঁওয়ের আকিজ পাম্পের বিক্রয়কর্মী তারেক বলেন, “জাতীয় লাইনে গ্যাস না থাকলে আমরা কীভাবে দেবো? হঠাৎ হঠাৎ সামান্য প্রেশার এলে আমরা তা দেওয়ার চেষ্টা করি। কিন্তু আমাদের তো করার কিছু নেই, আমরা নিরুপায়।” জামান পাম্পের বিক্রয়কর্মী আরমান ইসলাম জানান, লাইনে গ্যাস এলেই কেবল তারা বিক্রি চালু রাখেন, নতুবা পাম্প বন্ধ রাখতে হয়।