চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের বন্যা পরিস্থিতির আগামী ২৪ থেকে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে ধীরে ধীরে উন্নতি হতে পারে বলে জানিয়েছে বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র (এফএফডব্লিউসি)। শুক্রবার সন্ধ্যায় প্রকাশিত এক বিশেষ পূর্বাভাসে সংস্থাটি এ তথ্য জানিয়েছে। বর্তমানে ৭টি জেলার ৮টি পয়েন্টে চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের ৫টি প্রধান নদ-নদীর পানি বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।
বিশেষ বুলেটিন অনুযায়ী, সাঙ্গু নদীর পানি বান্দরবান পয়েন্টে বিপৎসীমার ৫৩ সেন্টিমিটার এবং চট্টগ্রামের দোহাজারী পয়েন্টে ৪ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। মাতামুহুরী নদীর পানি বান্দরবানের লামায় ৯৯ সেন্টিমিটার এবং কক্সবাজারের চিরিঙ্গায় ৪১ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে বইছে। এছাড়া খোয়াই নদীর পানি হবিগঞ্জের বল্লা পয়েন্টে ৩৪ সেন্টিমিটার, মনু নদীর পানি মৌলভীবাজারে ৭৫ সেন্টিমিটার এবং কুশিয়ারা নদীর পানি সুনামগঞ্জের মারকুলিতে ২২ সেন্টিমিটার ও সিলেটের ফেঞ্চুগঞ্জে ১৫ সেন্টিমিটার বিপৎসীমার ওপরে রয়েছে।
এফএফডব্লিউসি আরও জানিয়েছে, আগামী ২৪ থেকে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে তিস্তা নদীর পানি বিপৎসীমা অতিক্রম করে নীলফামারী, লালমনিরহাট ও রংপুর জেলার নিম্নাঞ্চলে স্বল্পমেয়াদি বন্যা পরিস্থিতি তৈরি করতে পারে। এফএফডব্লিউসির নির্বাহী প্রকৌশলী সরদার উদয় রায়হান জানান, চট্টগ্রাম, সিলেট ও রংপুরে মাঝারি থেকে ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা থাকলেও চট্টগ্রাম ও সিলেটে তা তুলনামূলক কম হবে। ফলে কক্সবাজার, বান্দরবান, হবিগঞ্জ ও মৌলভীবাজারের বন্যা পরিস্থিতির ধীরে ধীরে উন্নতি হবে এবং ৭২ ঘণ্টা পর পরিস্থিতি স্বাভাবিক হতে পারে।
আবহাওয়া অধিদপ্তরের আবহাওয়াবিদ মো. বজলুর রশিদ জানান, চট্টগ্রাম ও সিলেট অঞ্চলে গত তিন দিনের মতো টানা ভারী বৃষ্টি আর হবে না, তবে রংপুর, খুলনা ও রাজশাহী অঞ্চলে ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টি বাড়তে পারে। তবে ১৩ জুলাই থেকে স্বাভাবিক বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা বেশি। লঘুচাপের প্রভাবে অতি ভারী বৃষ্টিতে চট্টগ্রামে ৭৫৯ মিলিমিটার, বান্দরবানের লামায় ৫৬২ মিলিমিটার এবং কক্সবাজারে ৩০০ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে।