রংপুর জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে ‘মোবাইল টাওয়ারের তড়িৎচৌম্বকীয় বিকিরণ পর্যবেক্ষণ, জনসচেতনতা ও সেবার মান উন্নয়ন’ বিষয়ক মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। মঙ্গলবার সকালে প্রধান অতিথির বক্তব্যে বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশনের (বিটিআরসি) চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল মো. এমদাদ উল বারী (অব.) মোবাইল টাওয়ারের বিকিরণ নিয়ে আতঙ্কিত না হয়ে বৈজ্ঞানিক তথ্যের ভিত্তিতে সবাইকে সচেতন হওয়ার আহ্বান জানান।
বিটিআরসি চেয়ারম্যান জানান, অনুমোদিত নিয়ম ও নির্ধারিত মান অনুসরণ করে বিটিআরসির অনুমতিক্রমেই টাওয়ার স্থাপন করা হয়। আন্তর্জাতিক সংস্থা আইসিএনআইআরপি-র নির্ধারিত নিরাপদ সীমা প্রতি মিটারে ৬১ ভোল্ট। বিটিআরসির পরিমাপে রংপুরের গ্র্যান্ড প্যালেস হোটেল এলাকায় সর্বোচ্চ ১ দশমিক ৭৯৫ ভোল্ট, ক্যান্টনমেন্ট রোডে ১০ দশমিক ৪৮০ ভোল্ট এবং রেলওয়ে স্টেশনে শূন্য দশমিক ৪৭৪ ভোল্ট বিকিরণ পাওয়া গেছে। জেলার অন্য কোনো স্থানে এই মাত্রা ১১ ভোল্ট অতিক্রম করেনি।
পরিমাপ করা অন্য জায়গাগুলোর মধ্যে শাপলা মোড়, আলমনগর, শ্যামলী টেকনিক্যাল কলেজ, তাজহাট বাজার, তাজহাট জমিদারবাড়ি, টাউন হল ও অতিরিক্ত পুলিশ সুপারের কার্যালয় রয়েছে। একই সময়ে রংপুর শহরের নেটওয়ার্কের মান পরীক্ষায় ২জি ভয়েস কলের গড় সূচক পাওয়া গেছে ৩ দশমিক ৮৭ (নির্ধারিত মান ৩.৫)। এছাড়া ৪জি ইন্টারনেটে ডাটা ডাউনলোডের গতি ২৩ দশমিক ৩৯ মেগাবিট এবং আপলোডের গতি ১২ দশমিক ৯৪ মেগাবিট পাওয়া গেছে, যা নির্ধারিত মানের চেয়ে বেশি।
প্রযুক্তির ব্যবহার পুরোপুরি বন্ধ না করে শিশু-কিশোরদের মোবাইল আসক্তি থেকে দূরে রাখতে অভিভাবকদের নজরদারির আহ্বান জানান বিটিআরসি প্রধান। জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ রুহুল আমিনের সভাপতিত্বে সভায় বিটিআরসির মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল শফিউল আজম পারভেজ, পুলিশ প্রশাসন, শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও গণমাধ্যমকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।