বাংলাদেশে শিশুদের মাতৃদুগ্ধ পানের ক্ষেত্রে অগ্রগতির গতি কমে গেছে বলে জানিয়েছে ইউনিসেফ ও বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও)। সংস্থা দুটির তথ্য অনুযায়ী, ২০১৯ সালে দেশে ছয় মাসের কম বয়সী শিশুদের শুধু মায়ের দুধ পান করার হার ছিল ৬২ দশমিক ৬ শতাংশ, যা ২০২৫ সালে কমে ৫৬ দশমিক ৬ শতাংশে নেমে এসেছে। একই সময়ে জন্মের এক ঘণ্টার মধ্যে শিশুকে মায়ের দুধ খাওয়ানো শুরুর হার ৪৬ দশমিক ৬ শতাংশ থেকে কমে ৩০ দশমিক ৪ শতাংশে দাঁড়িয়েছে।
যৌথ বিবৃতিতে বলা হয়, জন্মের পর প্রথম ছয় মাস শিশুর প্রয়োজনীয় সব পুষ্টি মায়ের দুধ থেকেই পাওয়া যায়। এটি শিশুর শারীরিক-মানসিক বিকাশের পাশাপাশি মায়েদের স্তন ও ডিম্বাশয়ের ক্যানসার এবং টাইপ-২ ডায়াবেটিসের ঝুঁকি কমায়। এছাড়া মায়ের দুধ পান সহায়ক কার্যক্রমে প্রতি এক মার্কিন ডলার বিনিয়োগের বিপরীতে প্রায় ৫৯ মার্কিন ডলার অর্থনৈতিক সুফল পাওয়া যায়।
সংস্থা দুটি জানায়, কর্মজীবী মায়েদের বেতনসহ মাতৃত্বকালীন ছুটি, উপযোগী কর্মপরিবেশ ও শিশু-বান্ধব হাসপাতাল কার্যক্রম বিস্তৃত করা অত্যন্ত জরুরি। একই সঙ্গে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ বিভিন্ন মাধ্যমে বিকল্প শিশুখাদ্যের অনুপযুক্ত প্রচার বন্ধ করতে ‘মাতৃদুগ্ধের বিকল্প ও শিশুখাদ্য বিপণন নিয়ন্ত্রণ আইন-২০১৩’ কঠোরভাবে বাস্তবায়নের জোর তাগিদ দেওয়া হয়েছে।
এ বছরের বিশ্ব মাতৃদুগ্ধ সপ্তাহের প্রতিপাদ্য ‘জীবনের সূচনায় মাতৃদুগ্ধ পান : টেকসই উদ্যোগ করি বেগবান’। প্রতিটি শিশু ও মায়ের অধিকার সুরক্ষায় বাংলাদেশের স্বাস্থ্যব্যবস্থা শক্তিশালী করা এবং পরিবারগুলোকে সক্ষম করে তোলার লক্ষ্যে সরকার ও অংশীদারদের সঙ্গে কাজ চালিয়ে যাওয়ার কথা জানিয়েছে ইউনিসেফ ও ডব্লিউএইচও।