যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান হরমুজ প্রণালী পুনরায় চালুর বিষয়ে আলোচনা চলাকালীন নতুন সব শর্ত উপস্থাপন করেছে। এর ফলে তাদের পাঁচ মাসের যুদ্ধ অবসানের জন্য একটি বৃহত্তর চুক্তির সম্ভাবনা নিয়ে নতুন সন্দেহের সৃষ্টি হয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন যে, ইরানকে দশকের পর দশক ধরে চলা সংঘাত ও হামলার কারণে নিহত ও আহতদের জন্য ক্ষতিপূরণ দিতে হবে।
ট্রাম্প ট্রুথ সোশ্যাল প্ল্যাটফর্মে এক পোস্টে বলেন, ২০০০ সালের অক্টোবরে ইয়েমেনে ইউএসএস কোল নৌযানে হামলায় নিহত ১৭ জন মার্কিন নাবিকের পরিবারের ক্ষতিপূরণ ইরানকে দিতে হবে। এছাড়া তিনি জানুয়ারিতে সরকারবিরোধী অশান্তির সময় নিহত ইরানি বিক্ষোভকারীদের পরিবারের জন্যও ক্ষতিপূরণ দাবি করেন। ট্রাম্পের এই দাবিগুলো এমন এক সময়ে এল যখন ইরান জানিয়েছে যে মার্কিন ও ইসরায়েলি হামলায় তেহরানের ক্ষয়ক্ষতির জন্য যুক্তরাষ্ট্রকে ক্ষতিপূরণ দিতে হবে।
মার্কিন রাষ্ট্রপতির এই চড়া সুরের বক্তব্য তার ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সের মন্তব্যের সাথে বিরোধপূর্ণ বলে মনে হচ্ছে। ভ্যান্স শনিবার বলেছিলেন যে ইরানের সাথে একটি চুক্তিতে পৌঁছানোর বিষয়ে তিনি আত্মবিশ্বাসী এবং এই চুক্তি আমেরিকান জনগণের জন্য ভালো হবে। ভ্যান্স আরও জানান যে ইরান যুক্তরাষ্ট্রকে জানিয়েছে হরমুজ প্রণালীতে কোনো টোল আরোপের তাদের কোনো পরিকল্পনা নেই।
তবে ট্রাম্পের নতুন দাবির পর সোমবার তেলের দাম ৫ শতাংশের বেশি বেড়ে যায় এবং চুক্তির আশা ম্লান হয়ে যাওয়ায় মঙ্গলবারেও দাম বাড়তে থাকে। ইরান বলছে হরমুজ প্রণালী পুনরায় চালু করা ওয়াশিংটনের বেশ কিছু পদক্ষেপ গ্রহণের ওপর নির্ভর করে। এর মধ্যে ওয়াশিংটনকে একগুচ্ছ নতুন দাবি মেনে নিতে হবে যা ইরানের সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিল শনিবার ঘোষণা করেছে।
পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচির মতে, ওমানের সাথে হরমুজ প্রণালীতে নতুন শিপিং রুট নির্ধারণের আলোচনা অগ্রগতি লাভ করেছে এবং তা চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। রবিবার আরাঘচি পুনর্ব্যক্ত করেন যে যুক্তরাষ্ট্রের সাথে কোনো সরাসরি আলোচনা হচ্ছে না। তবে মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে বার্তা বিনিময় করা হচ্ছে বলে বোঝা যাচ্ছে।