কপার-টি একটি অত্যন্ত কার্যকর ও দীর্ঘমেয়াদি জন্মনিয়ন্ত্রণ পদ্ধতি হলেও এটি থাকা অবস্থায় গর্ভধারণের সম্ভাবনা একেবারে শূন্য নয়। প্রসূতি ও স্ত্রীরোগ বিশেষজ্ঞদের মতে, বছরে ১০০ জন ব্যবহারকারীর মধ্যে এক জনেরও কম ক্ষেত্রে গর্ভধারণ হতে পারে। মূলত কপার-টি সঠিক জায়গা থেকে সরে যাওয়া, 'সিইউ টি ৩৮০এ'-এর মতো ১০ বছরের নির্দিষ্ট মেয়াদ পার হওয়া কিংবা অজান্তে শরীর থেকে বেরিয়ে যাওয়ার কারণে এটি ঘটতে পারে।
কপার-টি থাকা অবস্থায় প্রেগন্যান্সি টেস্ট পজিটিভ হলে কয়েক সপ্তাহ অপেক্ষা না করে যত দ্রুত সম্ভব চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে। এ সময় ট্রান্সভ্যাজাইনাল আল্ট্রাসাউন্ডের মাধ্যমে গর্ভের এবং কপার-টির অবস্থান দেখা হয়। চিকিৎসকরা প্রথমেই জরায়ুর বদলে ফ্যালোপিয়ান টিউবে গর্ভধারণ বা এক্টোপিক প্রেগন্যান্সির সম্ভাবনা বাদ দিতে চান, যা সময়মতো চিকিৎসা না হলে প্রাণঘাতী হতে পারে।
গর্ভটি জরায়ুর ভেতরে থাকলে এবং কপার-টি নিরাপদে বের করা সম্ভব হলে তা দ্রুত সরিয়ে ফেলার পরামর্শ দেওয়া হয়। কপার-টি ভেতরে থেকে গেলে গর্ভপাত, জরায়ুতে সংক্রমণ, সময়ের আগেই পানি বেরিয়ে যাওয়া ও অপরিণত শিশুর জন্মের ঝুঁকি বাড়ায়। তবে কপার-টির সুতা দেখা না গেলে গর্ভের ক্ষতির আশঙ্কায় জোর করে সেটি বের করা হয় না। চিকিৎসকদের মতে, কপার-টি অ্যামনিওটিক স্যাকের বাইরে থাকায় শিশুর গঠনগত বা জন্মগত ত্রুটির সরাসরি কারণ এটি নয়।
এমন পরিস্থিতিতে তীব্র পেটব্যথা, বেশি রক্তপাত, মাথা ঘুরে অজ্ঞান হওয়া, জ্বর বা দুর্গন্ধযুক্ত স্রাবের মতো লক্ষণ দেখা দিলে জরুরি চিকিৎসা নিতে হবে। বিশেষজ্ঞরা পরামর্শ দেন, প্রতি মাসে ঋতুস্রাবের পর কপার-টি ঠিক জায়গায় আছে কি না খেয়াল রাখতে হবে। কপার-টি সরে গেলে চিকিৎসকের পরামর্শ না পাওয়া পর্যন্ত বিকল্প গর্ভনিরোধক ব্যবহার করা উচিত।