বান্দরবানে টানা ছয় দিনের ভারী বৃষ্টিপাত, পাহাড়ি ঢল এবং সাঙ্গু ও মাতামুহুরী নদীর পানি বৃদ্ধিতে বন্যা পরিস্থিতির মারাত্মক অবনতি হয়েছে। জেলা প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, জেলার ৩৪টির মধ্যে ২৯টি ইউনিয়নের ৫০০টিরও বেশি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। এতে প্রায় এক লাখেরও বেশি মানুষ চরম দুর্ভোগে পড়েছেন।
পাহাড়ধসের ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলো থেকে ৫ হাজারের বেশি বাসিন্দাকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে এবং ৪,৬০০ জনেরও বেশি মানুষ ৫৪টি কেন্দ্রে আশ্রয় নিয়েছেন। রাতভর বৃষ্টি ও উজানের ঢলে বান্দরবান শহরসহ থানচি, রুমা, রোয়াংছড়ি, লামা ও আলীকদম উপজেলায় নতুন করে পানি বৃদ্ধি পেয়েছে।
সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়ায় জেলা সদরের সাথে উপজেলাগুলোর এবং দেশের অন্যান্য অঞ্চলের যোগাযোগ ব্যাহত হচ্ছে। বহু এলাকায় নৌকাই এখন যাতায়াতের একমাত্র মাধ্যম। একই সঙ্গে বিদ্যুৎ ও মোবাইল নেটওয়ার্ক বিচ্ছিন্ন থাকায় দুর্দশা আরও বেড়েছে।
জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা বুলবুল আকতার সেতু জানান, বন্যা ও ধস মোকাবিলায় ২২০টি আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত রয়েছে। আবহাওয়া অফিসের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সনাতন কুমার মন্ডল জানান, আজ সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় ৮৮ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে এবং তা আগামীকাল পর্যন্ত অব্যাহত থাকতে পারে।
পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী অপু দেব জানান, আজ সকাল ১০টায় সাঙ্গু নদীর পানি বিপৎসীমার ওপর দিয়ে ১৬.৮১ মিটারে এবং মাতামুহুরী নদী ১২.১৩ মিটারে প্রবাহিত হচ্ছিল। পরিস্থিতি মোকাবিলায় সেনাবাহিনী, ফায়ার সার্ভিস, পুলিশ ও স্বেচ্ছাসেবকরা উদ্ধার ও ত্রাণ কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন।