বন্ধ করুন
শিশুদের পড়িয়ে, হাটে বড়ই বিক্রি করে এসএসসিতে এ প্লাস পেল দুর্জয়
ডিজাইন:
100%
ইপেপার সংস্করণ
Mahakallol News | বাংলাদেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ
দৈনিক পত্রিকা


দৈনিক পত্রিকা ২৯ আগস্ট ২০২৬ ইপেপার সংস্করণ
Mahakallol News | বাংলাদেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ

ইপেপার সংস্করণ ২৯ আগস্ট ২০২৬ দৈনিক পত্রিকা

Mahakallol News | বাংলাদেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ


শিশুদের পড়িয়ে, হাটে বড়ই বিক্রি করে এসএসসিতে এ প্লাস পেল দুর্জয়


মহাকল্লোল নিউজ ডেস্ক
মহাকল্লোল নিউজ ডেস্ক
প্রকাশ: ১১ আগস্ট ২০২৬ প্রিন্ট:
শিশুদের পড়িয়ে, হাটে বড়ই বিক্রি করে এসএসসিতে এ প্লাস পেল দুর্জয়
শিশুদের পড়িয়ে, হাটে বড়ই বিক্রি করে এসএসসিতে এ প্লাস পেল দুর্জয়
Featured Image

অভাবের সংসারে কৃষক বাবার সীমিত আয়ে পরিবারের খরচ চালানোই কঠিন। এর মধ্যেও নিজের পড়াশোনার খরচ নিজেই জোগাড় করে এসএসসি পরীক্ষায় এ প্লাস পেয়েছে বাগেরহাটের কচুয়ার দুর্জয় ঘরামি। শিশুদের পড়িয়ে টিউশনির টাকা এবং হাটে বড়ই বিক্রি করে পড়াশোনার খরচ চালিয়েছে সে।

সোমবার (১০ আগস্ট) দুর্জয় ঘরামি কচুয়া উপজেলার মালিপাটন গ্রামের কৃষক রাজীব ঘরামির ছেলে। সে শহীদ আসাদ স্মৃতি মাধ্যমিক বিদ্যালয় থেকে এবার এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নিয়ে এ প্লাস অর্জন করেছে।

ছোটবেলা থেকেই পরিবারের আর্থিক সংকট দেখেছে দুর্জয়। ফলে পড়াশোনার খরচের জন্য পরিবারের ওপর পুরোপুরি নির্ভর না করে নিজেই আয় করার পথ বেছে নেয়। এলাকার ছোট শিশুদের পড়িয়ে টিউশনি করত সে। সেই অর্থ দিয়ে বই-খাতা ও পড়াশোনার প্রয়োজনীয় খরচ চালাত। পাশাপাশি বিভিন্ন হাটে বড়ই বিক্রি করেও আয় করত।

একদিকে নিজের পড়াশোনা, অন্যদিকে শিশুদের পড়ানো এবং হাটে বড়ই বিক্রির কাজ সামলেও পড়াশোনা চালিয়ে গেছে দুর্জয়। আর্থিক সংকট তার স্বপ্নের পথে বাধা হয়ে দাঁড়ালেও কঠোর পরিশ্রম ও অধ্যবসায় থেকে সরে যায়নি সে।

দুর্জয় ঘরামি বলেন, আমার পরিবারের এমন সামর্থ্য নেই যে তারা আমার পড়াশোনার সব খরচ বহন করবে। তাই পড়াশোনার পাশাপাশি নিজেই কাজ করে খরচ জোগাড় করতে হয়েছে। টিউশনি করিয়েছি, আবার হাটে বড়ই বিক্রি করেও পড়াশোনার খরচ চালিয়েছি। অনেক কষ্ট হয়েছে, কিন্তু কখনো হাল ছাড়িনি। ভবিষ্যতে ইঞ্জিনিয়ার হওয়ার স্বপ্নের কথা জানিয়ে দুর্জয় বলেন, আমার বিশ্বাস ছিল, যত কষ্টই হোক পড়াশোনা করে ভালো কিছু করতে হবে। সরকার বা সমাজের বিত্তবানরা সহযোগিতা করলে আমার পড়াশোনা চালিয়ে যাওয়া সহজ হবে।

দুর্জয়ের বাবা-মা বলেন, পরিবারের আর্থিক অবস্থা ভালো না হওয়ায় ছেলের পড়াশোনার সব খরচ তারা বহন করতে পারেননি। নিজের খরচ চালাতে দুর্জয় টিউশনি করেছে এবং হাটে বড়ই বিক্রি করেছে। ছেলের সাফল্যে তারা আনন্দিত ও গর্বিত। দুর্জয়ের এক প্রতিবেশী বলেন, ছোটবেলা থেকেই সে পরিশ্রমী ও মেধাবী। আর্থিক সংকট থাকলেও পড়াশোনা থেকে পিছিয়ে যায়নি। নিজের খরচ জোগাতে কাজ করার পাশাপাশি এসএসসিতে এ প্লাস পাওয়ায় তার এই সাফল্য এলাকার অন্য শিক্ষার্থীদের জন্যও অনুপ্রেরণা হয়ে থাকবে।

শহীদ আসাদ স্মৃতি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক পরিমল কুমার মণ্ডল বলেন, নানা প্রতিকূলতার মধ্যেও দুর্জয় সবসময় পড়াশোনায় মনোযোগী ছিল। নিজের চেষ্টায় সে এগিয়ে গেছে। তার এমন ফলাফলে শিক্ষক হিসেবে তিনি গর্বিত। দুর্জয়ের পরিবার ও এলাকাবাসীর প্রত্যাশা, আর্থিক সংকট যেন তার উচ্চশিক্ষার পথে বাধা হয়ে না দাঁড়ায়। ইঞ্জিনিয়ার হওয়ার স্বপ্ন পূরণে সহযোগিতা পেলে দুর্জয় আরও এগিয়ে যেতে পারবে বলে মনে করছেন তারা।