৫ পরীক্ষার্থীকে পড়িয়েছেন ৭ শিক্ষক, তবু পাস করেনি কেউ
মহাকল্লোল নিউজ ডেস্ক
প্রকাশ: ১১ আগস্ট ২০২৬
প্রিন্ট:
৫ পরীক্ষার্থীকে পড়িয়েছেন ৭ শিক্ষক, তবু পাস করেনি কেউ

ময়মনসিংহ শিক্ষা বোর্ডে ১০টি প্রতিষ্ঠান শতভাগ পাস করলেও চারটি প্রতিষ্ঠান শতভাগ অকৃতকার্য হয়েছে।
সোমবার শিক্ষা বোর্ড কার্যালয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে ফলাফল ঘোষণা করেন বোর্ডের সচিব অধ্যাপক মো. এনামুল হক।
প্রকাশিত ফলাফলে জানা যায়, এ বছর এসএসসি পরীক্ষায় ১ লাখ ৯ হাজার ৬১৩ জন ফরম পূরণ করেছিলেন। পরীক্ষায় অংশ নেন ১ লাখ ৫ হাজার ২৮ জন। তাদের মধ্যে ছাত্র ৫৩ হাজার ৮৭৭ জন এবং ছাত্রী ৫১ হাজার ১৫১ জন।
ছাত্রদের পাসের হার ৫২ দশমিক ৬৬ শতাংশ এবং ছাত্রীদের ৬২ দশমিক ৩৭ শতাংশ। অর্থাৎ ছাত্রদের তুলনায় ছাত্রীদের পাসের হার ৯ দশমিক ৭১ শতাংশ বেশি।
এবার ময়মনসিংহ শিক্ষা বোর্ডে জিপিএ-৫ পেয়েছেন ৫ হাজার ৭০০ জন। তাদের মধ্যে ছাত্র ২ হাজার ৬২১ জন এবং ছাত্রী ৩ হাজার ৭৯ জন।
বোর্ডে ১০টি প্রতিষ্ঠান শতভাগ পাস করলেও চারটি প্রতিষ্ঠান শতভাগ অকৃতকার্য হয়েছে।
ময়মনসিংহের দুটি প্রতিষ্ঠান ছাড়াও জামালপুরের সরিষাবাড়ীর চাপারকোনা মোনিয়া আবুল গার্লস হাইস্কুলের ১১ পরীক্ষার্থী এবং ইসলামপুরের কাদামতলী করিপাড়া হাইস্কুলের তিনজন পরীক্ষার্থীর সবাই অকৃতকার্য হয়।
ময়মনসিংহ শিক্ষা বোর্ডের অধীনে এ বছর এসএসসি পরীক্ষায় চারটি প্রতিষ্ঠানের সব শিক্ষার্থী ফেল করেছে। এর মধ্যে মুক্তাগাছা ও ফুলবাড়িয়া উপজেলার দুটি প্রতিষ্ঠানের ঘটনা বেশ আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
ফুলবাড়িয়ার শহীদ স্মৃতি গার্লস হাইস্কুল থেকে এ বছর পাঁচজন পরীক্ষা দিয়ে সবাই ফেল করেছে। অপরদিকে মুক্তাগাছা মহাবিদ্যালয় থেকে চারজন পরীক্ষা দিয়ে কেউ পাস করতে পারেনি।
ফুলবাড়িয়ার শহীদ স্মৃতি গার্লস হাইস্কুল ১৯৯৬ সালে প্রতিষ্ঠিত হলেও এখনও এমপিওভুক্ত হয়নি। ষষ্ঠ থেকে দশম শ্রেণি পর্যন্ত ৯৮ জন শিক্ষার্থী থাকলেও শিক্ষক আছেন সাতজন। তবে গণিতের শিক্ষক প্রবাসে চলে যাওয়ায় পদটি ফাঁকা।
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সাবিনা ইয়াসমিন বলেন, “এখানে শিক্ষকরা দীর্ঘদিন ধরে বিনা বেতনে পড়াচ্ছেন। এখানকার শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা সবাই দরিদ্র। এ বছর যে পাঁচজন পরীক্ষা দিয়েছে তাদের প্রস্তুতি ভাল ছিল না। তারপর তাদের অতিরিক্ত মোবাইলের ব্যবহারের প্রবণতাও রয়েছে। এসব কারণেই এই ফল হয়েছে।
অন্যদিকে, মুক্তাগাছা মহাবিদ্যালয় থেকে যে চারজন পরীক্ষা দিয়েছে তাদের কেউ সেই প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থী নয়। তারা ‘এম এন ইন্টারন্যাশনাল স্কুল অ্যান্ড কলেজ’ নামের একটি অনুমোদনহীন প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থী ছিল। এখন প্রতিষ্ঠানটির মাধ্যমিক শাখার কার্যক্রম ও শিক্ষার্থী ভর্তি বন্ধ রয়েছে। সেই প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের পরীক্ষা দেওয়ার সুযোগ দিয়েছিল মুক্তাগাছা মহাবিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।
প্রতিষ্ঠানটির ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ বজরং আগারওয়ালা বলেন, মানবিক কারণে আগের অধ্যক্ষ এই সুযোগ দিয়েছিলেন। তবে এবার যে চারজন পরীক্ষা দিয়েছে তা তার জানা ছিল না।
এ ব্যাপারে ময়মনসিংহ শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক অধ্যাপক মো. শাহাদত উল্লাহ বলেন, “বোর্ডের আইডি ও পাসওয়ার্ড ব্যবহার করে ফরম পূরণ করায় পুরো দায়ভার কলেজ কর্তৃপক্ষের। নিজস্ব শিক্ষার্থী না থাকা সত্ত্বেও অন্য অস্বীকৃত স্কুলের শিক্ষার্থী দিয়ে পরীক্ষা দেওয়ানো স্পষ্ট অনিয়ম ও তথ্য গোপন। অনতিবিলম্বে প্রতিষ্ঠানটির কর্তৃপক্ষকে তলব করা হবে এবং সঠিক জবাব দিতে না পারলে তাদের স্বীকৃতি বাতিলের সুপারিশ করা হবে।
ফুলবাড়িয়া মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, “শতভাগ ফেল করা প্রতিষ্ঠানগুলোর তেমন কার্যক্রম নেই। কাগজে-কলমে শিক্ষার্থী দেখিয়ে তারা পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করায়। বিষয়টি খতিয়ে দেখে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ময়মনসিংহ শিক্ষক-কর্মচারী ঐক্যজোটের সভাপতি অধ্যাপক শেখ আমজাদ আলী বলেন, পাসের হার কমার অন্যতম কারণ হল ক্লাসে শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি কম হওয়া। এ সংকট কাটিয়ে উঠতে শিক্ষক, অভিভাবকদের আরও দায়িত্বশীল হতে হবে।