মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের বিরুদ্ধে সরাসরি সামরিক অভিযানের জোর কমিয়ে অর্থনৈতিক চাপ বৃদ্ধির কৌশল গ্রহণ করেছেন। গত ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হওয়া এই যুদ্ধে তেহরানকে আর্থিক সংকটে ফেলে নতিস্বীকারে বাধ্য করাই এখন ওয়াশিংটনের মূল লক্ষ্য।
মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স জানিয়েছেন, আমেরিকা তাদের উদ্দেশ্য হাসিলে কূটনৈতিক, অর্থনৈতিক ও সামরিক সব ধরনের কৌশল ব্যবহার করছে। গত এপ্রিলের মাঝামাঝি সময় থেকে মার্কিন সামরিক বাহিনীর সেন্ট্রাল কমান্ড (সেনটকম) ইরানি বন্দরগুলোতে নৌ অবরোধ বজায় রেখেছে, যাকে ট্রাম্প 'ইস্পাতের প্রাচীর' হিসেবে বর্ণনা করেছেন।
এই অবরোধের ফলে ইরানের দৈনিক প্রায় ১৫ লাখ ব্যারেল তেল রফতানি প্রায় শূন্যে নেমে এসেছে। এতে চরম মূল্যস্ফীতি ও আর্থিক সংকটে পড়েছে তেহরান। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি মার্কিন ও ইসরায়েলি হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আলী খামেনি নিহত হওয়ার পর এই যুদ্ধের সূচনা হয়েছিল। বর্তমানে ইরান হরমুজ প্রণালী বন্ধ রেখে উপসাগরীয় দেশগুলোর ওপর পাল্টা চাপ সৃষ্টি করছে।
দীর্ঘ যুদ্ধের কারণে আমেরিকার অস্ত্র ও গোলাবারুদের ঘাটতি দেখা দিয়েছে বলে বিভিন্ন গণমাধ্যমের খবরে দাবি করা হয়েছে। তবে পেন্টাগন কর্মকর্তা জ্যারেড কনলি আল জাজিরাকে জানিয়েছেন, বর্তমান সামরিক অভিযান চালিয়ে যাওয়ার জন্য আমেরিকার কাছে যথেষ্ট গোলাবারুদ রয়েছে।
নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে নিজ দেশেও এই যুদ্ধ নিয়ে রাজনৈতিক চাপে রয়েছেন ট্রাম্প। রয়টার্স/ইপসোসের এক জরিপ অনুযায়ী, মাত্র ৩৫ শতাংশ আমেরিকান এই যুদ্ধকে সমর্থন করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, ওয়াশিংটনের অর্থনৈতিক চাপ ও তেহরানের রাজনৈতিক ব্যবস্থার মুখোমুখি অবস্থানে এই সংঘাতের সমাধান কীভাবে আসবে তা এখনও অনিশ্চিত।