আগামী ২৪ থেকে ৭২ ঘণ্টার মধ্যে দেশের ১০টি জেলায় নতুন করে স্বল্পমেয়াদি বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হতে পারে বলে জানিয়েছে বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র (এফএফডব্লিউসি)। শনিবার সন্ধ্যায় প্রকাশিত এক বিশেষ বুলেটিনে এই তথ্য জানানো হয়। আবহাওয়া সংস্থার পূর্বাভাস অনুযায়ী, আগামী ২৪ থেকে ৪৮ ঘণ্টায় দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে এবং ভারতের সীমান্তবর্তী এলাকায় ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টির শঙ্কা রয়েছে।
এফএফডব্লিউসি জানিয়েছে, উত্তর-পূর্বাঞ্চলে তিন দিনে মোট ৩০০ থেকে ৪৫০ মিলিমিটার এবং উত্তরাঞ্চলের সীমান্ত এলাকায় ২৫০ থেকে ৩৫০ মিলিমিটার পর্যন্ত বৃষ্টিপাত হতে পারে। এর ফলে সুরমা, কুশিয়ারা, সারিগোয়াইন, জাদুকাটা, সোমেশ্বরী ও ভোগাই-কংশ নদীর পানি বেড়ে বিপদসীমা অতিক্রম করতে পারে। এতে সিলেট, সুনামগঞ্জ, নেত্রকোণা, শেরপুর ও ময়মনসিংহের নিচু এলাকায় বন্যা পরিস্থিতির অবনতি বা নতুন করে স্বল্পমেয়াদি বন্যা দেখা দিতে পারে।
অন্যদিকে, দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের মুহুরী, ফেনী ও সিলোনিয়া নদীর পানি আগামী দুই দিন বাড়তে পারে বলে পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে। এর ফলে ফেনী, চট্টগ্রাম ও খাগড়াছড়ির কিছু অংশে স্বল্পমেয়াদি ফ্ল্যাশ ফ্লাডের ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। তবে মৌলভীবাজার ও হবিগঞ্জের মনু, ধলাই ও খোয়াই নদীর পানি ধীরে কমছে। পাশাপাশি বান্দরবান, চট্টগ্রাম ও কক্সবাজারের সাঙ্গু ও মাতামুহুরী নদীর পানি আগামী ২৪ ঘণ্টায় কমে পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতির আশা করা হচ্ছে।
উত্তরাঞ্চলের তিস্তা, দুধকুমার ও ধরলার পানি আগামী তিন দিন বাড়তে পারে এবং নীলফামারী, লালমনিরহাট, রংপুর, কুড়িগ্রাম ও গাইবান্ধায় নদীর পানি বিপদসীমা অতিক্রম করতে পারে। এফএফডব্লিউসির নির্বাহী প্রকৌশলী সরদার উদয় রায়হান দ্য ডেইলি স্টারকে জানান, চলমান ভারী বর্ষণের কারণে আগামী ২৪ ঘণ্টায় পরিস্থিতির উন্নতি ধীরগতির হলেও পরবর্তীতে পরিস্থিতির উল্লেখযোগ্য উন্নতি হতে পারে। শনিবার সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত পাওয়া তথ্যে জানা যায়, দেশের ৬ জেলার ৭টি পয়েন্টে পাঁচটি প্রধান নদীর পানি বিপদসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।