পঞ্চগড়ে সদ্য প্রকাশিত এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ফলাফলে জেলার তিনটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের কোনো পরীক্ষার্থী পাস করতে পারেনি। শতভাগ অকৃতকার্য হওয়া এসব প্রতিষ্ঠানের মধ্যে বোদা উপজেলার দুটি বালিকা উচ্চবিদ্যালয় এবং তেঁতুলিয়া উপজেলার একটি দাখিল মাদ্রাসা রয়েছে। তিন প্রতিষ্ঠান থেকে মোট ২৫ জন শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নিয়ে সবাই অকৃতকার্য হয়েছে। এর মধ্যে একটি বিদ্যালয় থেকে অংশ নিয়েছিল মাত্র একজন শিক্ষার্থী। একদিকে শতভাগ ফেল, অন্যদিকে এসব প্রতিষ্ঠানের জরাজীর্ণ অবস্থা ও নিয়মিত শিক্ষা কার্যক্রম না থাকা নিয়ে স্থানীয়দের মাঝে তীব্র ক্ষোভ ও প্রশ্ন উঠেছে।শিক্ষা কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, শূন্য পাস করা প্রতিষ্ঠান তিনটি হলো—বোদা উপজেলার চন্দনবাড়ি ইউনিয়নের বলরামহাট মডেল বালিকা উচ্চবিদ্যালয়, বোদা সর্দারপাড়া বালিকা উচ্চবিদ্যালয় এবং তেঁতুলিয়া উপজেলার তেঁতুলিয়া দাখিল মাদ্রাসা। তথ্য অনুযায়ী, বলরামহাট মডেল বালিকা উচ্চবিদ্যালয় থেকে এবার মাত্র ১ জন শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নিয়ে ফেল করেছে। বোদা সর্দারপাড়া বালিকা উচ্চবিদ্যালয় থেকে ৩ জন অংশ নিয়ে ৩ জনই অকৃতকার্য হয়েছে। আর তেঁতুলিয়া দাখিল মাদ্রাসা থেকে দাখিল পরীক্ষায় অংশ নেওয়া ২১ জন শিক্ষার্থীর কেউই পাস করতে পারেনি। সরেজমিনে চন্দনবাড়ি এলাকার বলরামহাট মডেল বালিকা উচ্চবিদ্যালয়ে গিয়ে দেখা যায়, ষষ্ঠ থেকে দশম শ্রেণি পর্যন্ত কাগজে-কলমে প্রায় ১০০ শিক্ষার্থী থাকার কথা থাকলেও দুপুরে উপস্থিত ছিল মাত্র ১০ জনের মতো। উপস্থিত ছিলেন মাত্র তিনজন শিক্ষক; প্রধান শিক্ষকসহ অন্য শিক্ষক-কর্মচারীদের সেখানে পাওয়া যায়নি। এমনকি বিদ্যালয়টিতে ঝুলানো নেই কোনো সাইনবোর্ড। ১৯৯৮ সালে প্রতিষ্ঠিত হলেও এটি এখনো এমপিওভুক্ত হতে পারেনি।একই চিত্র দেখা গেছে বোদা সর্দারপাড়া বালিকা উচ্চবিদ্যালয়েও। সেখানেও কোনো সাইনবোর্ড নেই, একটি কক্ষ বন্ধ এবং পাশের টিনের ঘরে নেই কোনো দরজা-জানালা বা বেড়া। এমনকি প্রতিষ্ঠানটির শিক্ষা কার্যক্রম সংক্রান্ত পর্যাপ্ত তথ্য উপজেলা শিক্ষা কার্যালয়েও পাওয়া যায়নি। এ বিষয়ে জানতে প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রধান শিক্ষকদের মুঠোফোনে একাধিকবার চেষ্টা করা হলেও তাঁরা ফোন রিসিভ করেননি। বোদা উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আইবুর ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, ফলাফল অনুযায়ী বোদা উপজেলার এই দুটি নন-এমপিও প্রতিষ্ঠানের কোনো পরীক্ষার্থীই পাস করতে পারেনি। ফলাফলের এমন বিপর্যয় এবং সরেজমিনের করুণ চিত্র দেখে স্থানীয় অভিভাবক ও সচেতন মহল এসব প্রতিষ্ঠানের শিক্ষা কার্যক্রম, শিক্ষার্থী উপস্থিতি ও নিয়মিত পাঠদানের ওপর কঠোর নজরদারি এবং প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণের জোর দাবি জানিয়েছেন।