সাভারের কেন্দ্রীয় গো-প্রজনন ও দুগ্ধ খামারে (ডেইরি ফার্ম) বহিরাগত এক বখাটের হামলায় জয়নাল হাজারী নামের রাজস্ব খাতের এক কর্মচারী গুরুতর আহত হয়ে হাসপাতালে মৃত্যুর সাথে পাঞ্জা লড়ছেন। বর্তমানে তিনি রাজধানীর শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। এ ঘটনায় ভুক্তভোগীর পরিবারের পক্ষ থেকে আশুলিয়া থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত রবিবার সকালে ডেইরি ফার্মের একটি ইজারাকৃত পুকুরে জয়নাল হাজারী ও তার পরিবারের সদস্যরা মাছ ধরছিলেন। বেলা ১১টার দিকে কেরানীগঞ্জের কলাতিয়া গ্রামের মৃত আমির আলীর ছেলে অভিযুক্ত শেখ আবেদ আলী (৩৫) সেখানে এসে মাছ ধরা ও পুকুরের ইজারার টাকা নিয়ে বাকবিতণ্ডায় জড়ায়। একপর্যায়ে আবেদ আলী বহিরাগত লোকজনকে ডেকে এনে জয়নাল হাজারীর ওপর হামলা চালায় এবং তাকে হত্যার চেষ্টা করে। পরে তার ছেলে ও স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে প্রথমে এনাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে অবস্থার অবনতি হলে তাকে দ্রুত ঢাকার শহীদ সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। খামারের কর্মকর্তা-কর্মচারী ও স্থানীয়দের তথ্যমতে, শেখ আবেদ আলী একজন চিহ্নিত বখাটে ও মাদকাসক্ত। ইতিপূর্বে তিনি বাংলাদেশ প্রাণিসম্পদ গবেষণা ইনস্টিটিউটে (বিএলআরআই) মাস্টাররোলে চাকরি করলেও বর্তমানে বেকার। ডেইরি ফার্মে কর্মরত তার চাচা শহর আলীর আশ্রয়ে তিনি দীর্ঘদিন ধরে প্রতিষ্ঠানটির স্টাফ কোয়ার্টার এলাকায় বসবাস করে আসছেন। স্থানীয়দের অভিযোগ, আবেদ আলী মূলত জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় সংলগ্ন ইসলামনগর এলাকার 'সাইকো মারুফ' নামে এক প্রভাবশালীর সহযোগী হিসেবে ডেইরি ফার্মের অভ্যন্তরে বিভিন্ন অপকর্ম চালিয়ে আসছিলেন। তবে নিজের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ অস্বীকার করে শেখ আবেদ আলী দাবি করেন, জয়নাল হাজারী ও তার দুই ছেলেই তাকে প্রথম মারধর করেছে। কিন্তু জয়নাল হাজারী কীভাবে মুমূর্ষু অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি হলেন—এ বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি কোনো জবাব না দিয়ে সটকে পড়েন। সাভার কেন্দ্রীয় গো-প্রজনন ও দুগ্ধ খামারের পরিচালক মো. শহিদুল ইসলাম বলেন, "তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে আমাদের প্রতিষ্ঠানের রাজস্ব খাতের এক কর্মচারীর ওপর বহিরাগতরা হামলা চালিয়েছে। আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাকে ঢাকা রেফার্ড করা হয়েছে। তিনি আরও জানান, যে কর্মচারীর সুবাদে অভিযুক্ত বহিরাগত আবেদ আলী ভেতরে অবস্থান করছিল, সেই মাস্টাররোল কর্মচারী শহর আলীকে কারণ দর্শানোর নোটিশ (শো-কজ) দেওয়া হয়েছে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগীর পরিবারের পক্ষ থেকে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে।