কিশোরগঞ্জের ইটনা, মিঠামইন, অষ্টগ্রাম ও নিকলী উপজেলার শিক্ষাব্যবস্থায় আমূল পরিবর্তনের লক্ষ্যে ৪৩০ কোটি টাকা ব্যয়ে ২৫টি আধুনিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের বহুতল ভবন নির্মাণের প্রকল্পে ভয়াবহ দুর্নীতির চিত্র উঠে এসেছে। বিগত আওয়ামী লীগ সরকার আমলে নেওয়া এই প্রকল্পের অধিকাংশ ভবনে মারাত্মক নির্মাণ ত্রুটি চিহ্নিত করেছে পরিকল্পনা কমিশনের বাস্তবায়ন পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়ন বিভাগ (আইএমইডি)।
আইএমইডির সমীক্ষা প্রতিবেদনে দেখা যায়, অষ্টগ্রামের আব্দুল ওয়াদুদ উচ্চ বিদ্যালয়, মিঠামইনের বিরাটী ও কাঞ্চনপুর উচ্চ বিদ্যালয় এবং নিকলী মুক্তিযোদ্ধা আদর্শ সরকারি কলেজসহ একাধিক প্রতিষ্ঠানে নিচুমানের সামগ্রী ব্যবহার করা হয়েছে। উদ্বোধনের আগেই নতুন ভবনের দেওয়ালে ফাটল, অসমান প্লাস্টার, বাঁকা লিন্টেল, ইটের গাঁথুনিতে ফাঁক এবং ছাদে লিকেজ ধরা পড়েছে।
নির্মাণ ত্রুটির পাশাপাশি প্রকল্পটিতে চরম আর্থিক অনিয়ম সংগঠিত হয়েছে। ২০২০-২১ থেকে ২০২৪-২৫ অর্থবছরের মধ্যে ১৪টি অডিট আপত্তিতে ৩৪ কোটি ২৩ লাখ টাকার আর্থিক অনিয়ম চিহ্নিত হলেও এখন পর্যন্ত একটিরও নিষ্পত্তি হয়নি। এছাড়া প্রকল্পে ভুয়া টেস্ট রিপোর্ট প্রদানের মতো গুরুতর প্রমাণও পাওয়া গেছে।
হাওড় অঞ্চলের ভৌগোলিক বাস্তবতা ও দীর্ঘস্থায়ী জলাবদ্ধতার কথা বিবেচনা করে এই দুর্নীতি বন্ধে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি। আইএমইডির সুপারিশ অনুযায়ী একটি উচ্চপর্যায়ের টাস্কফোর্স গঠন করে ঘটনার বস্তুনিষ্ঠ তদন্ত করা, জড়িত ঠিকাদার ও কর্মকর্তাদের আইনের আওতায় আনা এবং শিক্ষার্থীদের সুবিধার্থে দ্রুত স্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় আসবাবপত্র ও আইসিটি সরঞ্জাম সরবরাহের আহ্বান জানানো হয়েছে।