দেশের বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোয় ১, ২ ও ৫ টাকার কয়েন এবং ৫, ১০ ও ২০ টাকার নোটের তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। ব্যাংক থেকে সাধারণ গ্রাহকরা খালি হাতে ফিরলেও সুযোগ কাজে লাগিয়ে অসাধু দালালচক্র ২০ থেকে ৩২ শতাংশ পর্যন্ত চড়া কমিশনে বাজারে এসব খুচরা টাকা সরবরাহ করছে।
খুচরা টাকার এই সংকটের সুযোগে একশ্রেণীর দালাল অবৈধ বাণিজ্য চালিয়ে যাচ্ছে। সম্প্রতি একটি শপিংমলকে ৪৮ হাজার টাকার খুচরা পেতে ১১ হাজার ১০০ টাকা পর্যন্ত কমিশন গুনতে হয়েছে। দীর্ঘদিন নতুন নোট বাজারে না আসা এবং পুরোনো নোট সরানোর স্বাভাবিক প্রক্রিয়া ব্যাহত হওয়াকেই এ পরিস্থিতির মূল কারণ হিসেবে চিহ্নিত করা হচ্ছে।
ব্যাংকগুলোর ভল্টে খুচরা টাকার ঘাটতি থাকলেও দালালদের হাতে বিপুল পরিমাণ কয়েন পৌঁছানো নিয়ে বড় প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। অর্থনীতিবিদদের মতে, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের অসাধু চক্রের যোগসাজশ ছাড়া এমনটা ঘটা কঠিন। তবে বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র জানান, কয়েনের সংকট নেই এবং দালালদের বিষয়ে তিনি অবগত নন।
আর্থিক খাতের এই নৈরাজ্য কাটাতে দ্রুত পর্যাপ্ত নতুন খুচরা নোট ও কয়েন সরবরাহের পাশাপাশি মুদ্রা সরবরাহ চেইনে কঠোর নজরদারি বাড়ানোর পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এছাড়া দালালদের বিরুদ্ধে গোয়েন্দা নজরদারি, ব্যাংক শাখায় বিশেষ বুথ চালু এবং ডিজিটাল লেনদেনের প্রসার ঘটানো জরুরি।