গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জে একের পর এক প্রতারণা করে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে শেখ জাহিদ হাসান জিল্লুর বিরুদ্ধে।
সরজমিনে গিয়ে শেখ জাহিদ হাসান জিল্লুর বিরুদ্ধে অসংখ্য অভিযোগের তথ্য পাওয়া যায়। জিল্লুর নিজেকে সরকারি উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা দাবি করে চাকরি দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে লক্ষ লক্ষ টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বিভিন্ন সময় বিভিন্ন উপায়ে সাধারণ মানুষকে ভুল বুঝিয়ে অর্থ হাতিয়ে আসছে একটি অসাধু চক্র। আর এই চক্রের মূল হোতা উপজেলার ধোপাডাঙ্গা ইউনিয়নের ধোপাডাঙ্গা গ্রামের মৃত ফরজান আলী মাস্টারের পুত্র শেখ জাহিদ হোসেন জিল্লু। সরকারি ঘর, বয়স্ক, বিধবা ও শিশু ভাতাসহ চাকরি দেওয়ার মিথ্যা প্রলোভন দেখিয়ে তিনি হাতিয়ে নিয়েছেন লক্ষ লক্ষ টাকা। এমনকি ভুয়া নিয়োগপত্র দিয়েও প্রতারণা করেছেন তিনি। তথ্য নিয়ে জানা যায়, ২০১৯ সাল পর্যন্ত বিজিবিতে চাকরি করেছেন জাহিদ। সদর দপ্তরে গোপন তথ্য চুরির দায়ে চাকরিচ্যুত ও প্রতারণার দায়ে জেলবন্দি ছিলেন তিনি। তবে জেল থেকে বেরিয়ে আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠেন তিনি। বিভিন্ন স্থানে চাকরি দেওয়ার নামে অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগে বিভিন্ন থানায় একাধিক মামলার শিকার হন তিনি। এর পরেও নিজেকে সংশোধন না করে সরকারি ঘর ও বিভিন্ন ভাতা করে দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে অসহায় মানুষের কাছ থেকে অর্থ হাতিয়ে নিচ্ছেন।
প্রতারণার শিকার দক্ষিণ ধোপাডাঙ্গা ভেঁকিরমোড় গ্রামের ভুক্তভোগী মান্নান মিয়া ওরফে মাজহারুল জানান, নৌবাহিনীতে চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে তাঁর কাছ থেকে ১৭ লক্ষ টাকার বিনিময়ে ভুয়া নিয়োগপত্র দিয়ে প্রতারণা করা হয়েছে। পরে স্থানীয় মেম্বর সপ্না ও মেম্বর জাহাংগীর আলমদ্বয়ের হস্তক্ষেপে বিষয়টি সুরহা করে দেন।
প্রতারণার শিকার উপজেলার দক্ষিণ বেকাটারী গ্রামের বাসিন্দা মফিজল হক জানান, তাঁর ছেলেকে সেনাবাহিনীর চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে ৬ লক্ষ টাকা হাতিয়ে নিয়ে ভুয়া নিয়োগ পত্র দেন। এই জাহিদ হাসান জিল্লু। তিনি ভুয়া কাগজ দেখে তাঁকে আটক করেন এবং পরে স্থানীয় ইউপি সদস্যকে বিষয়টি বুঝিয়ে সময় নিয়ে জাহিদ চলে যান। এরপর থেকে একাধিকবার টাকার তাগাদা দিলে তিনি বিভিন্ন লোক দিয়ে সময়ক্ষেপণ করান। এর মাঝে তাঁর সন্তান বিনা টাকায় সরকারি চাকরি পায়। এখন টাকা চাইলে তিনি ছেলেকে চাকরিচ্যুত করার হুমকি দিচ্ছেন।
ভুক্তভোগী দক্ষিণ ধোপাডাঙ্গা বেডারভিটা গ্রামের আজিরন বেওয়া জানান, তাঁর নাতির জন্য সরকারিভাবে শিশু ভাতা পাইয়ে দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে ৫ হাজার টাকা হাতিয়ে নেন জাহিদ। টাকা ফেরত চাইলে তিনি মামলার ভয়ভীতি দেখান।
একই গ্রামের ভুক্তভোগী ছকু মিয়া জানান, আশ্রয়ণ প্রকল্পের সরকারি জমিসহ ঘর পাইয়ে দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে ২০ হাজার টাকা নিয়ে প্রতারণা করেন তিনি। এখন টাকা ফেরত চাইলে তিনি বিভিন্ন ধরনের হুমকি দিচ্ছেন।
একই গ্রামের ভুক্তভোগী সুফিয়া বেগম জানান, আশ্রয়ণ প্রকল্পের সরকারি জমিসহ ঘর পাইয়ে দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে ১৫ হাজার টাকা নিয়ে প্রতারণা করেছেন জাহিদ। এখন টাকা ফেরত চাইলে তাঁকেও হুমকি প্রদান করা হচ্ছে।
এ বিষয়ে শেখ জাহিদ হাসান জিল্লুর সাথে মোবাইল ফোনে কথা বলার চেষ্টা করেও তাঁকে পাওয়া যায়নি। থানা অফিসার ইনচার্জ শাহিন মোহাম্মদ আমানুল্লাহ জানান, বিষয়টি তিনি শুনেছেন তবে এখনো কোনো অভিযোগ পাননি। অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।