বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসের অন্যতম প্রধান বাঁক জুলাই গণ-অভ্যুত্থান। বৈষম্য ও স্বৈরাচারের বিরুদ্ধে সাধারণ মানুষ এবং তরুণদের আত্মত্যাগের মাধ্যমে একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার অঙ্গীকার তৈরি হয়েছিল। তবে সাম্প্রতিক সময়ে অভ্যুত্থানের পক্ষের প্রধান রাজনৈতিক শক্তিগুলোর অসংহতি, মতপার্থক্য ও রাজপথের সংঘাত জাতির জন্য গভীর উদ্বেগের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।
রাষ্ট্র পরিচালনা, সংবিধান সংস্কার এবং 'জুলাই সনদ' বাস্তবায়নের ইস্যুতে প্রধান শরিক দলগুলোর অনৈক্য দূর হচ্ছে না। সম্প্রতি এনসিপির কর্মসূচিতে হামলা এবং দলগুলোর পরস্পরের প্রতি কাদা ছোড়াছুড়ির ঘটনা রাজনৈতিক পরিবেশকে সংঘাতময় করে তুলছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা স্পষ্ট সতর্কবার্তা দিয়ে বলছেন, জুলাই স্পিরিট হারালে বাংলাদেশ হেরে যাবে।
গণতন্ত্রে ভিন্নমত ও গঠনমূলক সমালোচনা স্বাভাবিক হলেও মতদ্বৈততা যখন হানাহানিতে রূপ নেয়, তখন তা দেশের স্থিতিশীলতা বিনষ্ট করে। এ ধরনের বিভাজন পতিত ফ্যাসিবাদের পুনর্বাসন ও অপশক্তির মাথাচাড়া দিয়ে ওঠার সুযোগ তৈরি করে। একই সঙ্গে অভ্যন্তরীণ কোন্দলের সুযোগে বহিরাগত শক্তির হস্তক্ষেপে ঝুঁকিও বহুগুণ বৃদ্ধি পায়।
বিএনপি, জামায়াতে ইসলামী কিংবা এনসিপির নিজস্ব রাজনৈতিক কৌশল থাকতে পারে, তবে জাতীয় স্বার্থ ও জুলাইয়ের চেতনা কোনো একক দলের নয়। শহীদদের আত্মত্যাগ এবং জনগণের গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র গঠনের স্বপ্ন বাঁচিয়ে রাখতে অনতিবিলম্বে রাজনৈতিক দলগুলোকে আলোচনার টেবিলে বসে বিভাজনের রাজনীতি পরিহার করতে হবে।