দেশে চলমান হামের প্রাদুর্ভাবে ভাইরাসটির এমন কোনো নতুন জেনেটিক পরিবর্তনের প্রমাণ মেলেনি, যা বিদ্যমান টিকার সুরক্ষাকে এড়িয়ে যেতে পারে। আইসিডিডিআর,বি ও রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউট (আইইডিসিআর) যৌথভাবে ৫৫টি হোল-জিনোম সিকোয়েন্স বিশ্লেষণ করে দেখেছে যে, সব ভাইরাসই বি৩ সাবক্লেডের অন্তর্ভুক্ত এবং এগুলো বিশ্বে বিদ্যমান অন্য বি৩ ভাইরাসের মতোই।
গবেষণায় দেখা গেছে, টিকার নির্ধারিত বয়স না হওয়ায় ৯ মাসের কম বয়সী শিশুরা হামের সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে রয়েছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের ১৫ মার্চ থেকে ২৫ জুলাই পর্যন্ত দেশে ১ লাখ ২২ হাজার ৭৬৩ জন সন্দেহভাজন হাম রোগী শনাক্ত হয়, যার মধ্যে ১৫ হাজার ২৭২ জনের পরীক্ষা নিশ্চিত হয়েছে। একই সময়ে হামে ৯৫ জনের মৃত্যু নিশ্চিত হওয়ার পাশাপাশি আরও ৭২১টি সন্দেহভাজন মৃত্যুর ঘটনা নথিভুক্ত করা হয়েছে।
আইসিডিডিআর,বি এবং বাংলাদেশ শিশু হাসপাতাল ও ইনস্টিটিউটের ৩৪১ জন শিশুকে নিয়ে করা গবেষণায় দেখা যায়, দুই ডোজ টিকা নেওয়া শিশুদের মধ্যে আক্রান্তের হার তুলনামূলক অনেক কম। টিকা না পাওয়া বা বয়স না হওয়া শিশুদের ক্ষেত্রে আক্রান্তের হার ৯৭ শতাংশ হলেও, দুই ডোজ সম্পূর্ণ করা শিশুদের আক্রান্ত হওয়ার হার কমে দাঁড়িয়েছে ৭৬ শতাংশে, যা টিকার কার্যকারিতার বড় প্রমাণ।
আইসিডিডিআর,বির সংক্রামক রোগ বিভাগের জ্যেষ্ঠ পরিচালক ডা. মুস্তাফিজুর রহমান বলেন, টিকাদানই হাম প্রতিরোধে সবচেয়ে কার্যকর উপায়। তবে টিকাদানের হার বেশি থাকা সত্ত্বেও কেন এই প্রাদুর্ভাব ঘটল, তা অনুসন্ধানে মাঠপর্যায়ে অনুসন্ধানের পাশাপাশি বিভিন্ন গবেষণা চালানো হচ্ছে। গবেষকেরা অভিভাবকদের নির্ধারিত বয়স অনুযায়ী শিশুদের হাম-রুবেলা টিকার সব ডোজ নিশ্চিত করার পরামর্শ দিয়েছেন।