বাংলাদেশে বর্ষার স্বাভাবিক রূপ ও বৃষ্টিপাতের ধরন স্পষ্টভাবেই বদলে যাচ্ছে। আবহাওয়া সংক্রান্ত তথ্য ও বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রাক-বর্ষায় অতিরিক্ত বৃষ্টি, বর্ষা দেরিতে আসা, বর্ষা মৌসুমে দীর্ঘ শুষ্ক সময় এবং স্বল্প সময়ে তীব্র বৃষ্টির প্রবণতা বাড়ছে। আবহাওয়ার এই অনিয়মিত আচরণের কারণে দেশের কৃষি খাত এবং বিশেষ করে প্রান্তিক কৃষকেরা মারাত্মক ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছেন।
কৃষি মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, গত ৬ থেকে ১৪ জুলাইয়ের ভারী বৃষ্টি ও বন্যায় চট্টগ্রাম ও সিলেটের সাতটি জেলায় ২ লক্ষ ১১ হাজার ১৪৫ জন কৃষকের ২৭ হাজার ১১ হেক্টর জমির ফসল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তরের আবহাওয়াবিদ ড. বাজলুর রশীদ জানান, এ বছরের বর্ষা অত্যন্ত অস্বাভাবিকভাবে শুরু হয়েছে। শীতে তেমন বৃষ্টি না হলেও মার্চ ও এপ্রিলে প্রচুর বৃষ্টি হয়েছে, অথচ জুনে বর্ষা শুরুর সময় দেশে তাপদাহ বয়ে গেছে। বঙ্গোপসাগরে নিম্নচাপের গতিপথ পরিবর্তন এবং এল নিনোর প্রভাবে এমনটি ঘটছে।
আবহাওয়া অধিদপ্তরের ২০২৪ সালের এপ্রিলের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ১৯৮০ থেকে ২০২৩ সালের তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায় যে মোট মৌসুমী বৃষ্টিপাত একই থাকলেও এর বিতরণে বড় পরিবর্তন এসেছে। যেমন, ঢাকা ও রাজশাহীতে প্রতি দশকে বৃষ্টির দিন প্রায় ২.৭ দিন কমেছে এবং শুষ্ক দিন ২.৫ থেকে ২.৭ দিন বেড়েছে। ড. বাজলুর রশীদ আরও জানান, গত এক দশকে দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমী বায়ু স্বাভাবিকের চেয়ে দুই থেকে পাঁচ দিন দেরিতে প্রবেশ করছে এবং টানা বৃষ্টির বদলে স্বল্প মেয়াদে অতিবৃষ্টি ঘটাচ্ছে।
চলতি বছর মার্চে স্বাভাবিকের চেয়ে ৩১ শতাংশ এবং এপ্রিলে ৭৬ শতাংশ বেশি বৃষ্টি হলেও জুনে প্রায় ৩০ শতাংশ কম বৃষ্টিপাত হয়েছে। আবহাওয়ার এই চরম ভাবাপন্নতায় ফসলের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হচ্ছে। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের মতে, মার্চ মাসে অতিবৃষ্টিতে সারা দেশে ২,১৩১ হেক্টর জমির ফসল নষ্ট হয়, যার মধ্যে উত্তরাঞ্চলের ৯১৬ হেক্টর আলুর খেত ছিল। এছাড়া কৃষি মন্ত্রণালয় জানায়, ২৬ এপ্রিল থেকে ৪ মে এর মধ্যে ভারী বৃষ্টিতে সাতটি হাওর জেলায় প্রায় ১,০৪৭ কোটি টাকার ফসলের ক্ষতি হয়েছে।