মধ্যপ্রাচ্যের ক্রমবর্ধমান অস্থিরতা ও নিরাপত্তা শঙ্কার মধ্যে পাকিস্তান, সৌদি আরব এবং তুরস্কের মধ্যে একটি ঐতিহাসিক সামরিক চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে। 'মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তি' নামের এই জোটের মূল লক্ষ্য হলো বাহ্যিক যেকোনো হুমকি যৌথভাবে প্রতিরোধ করা এবং আঞ্চলিক প্রতিরক্ষা জোরদার করা।
এই জোটের তিনটি দেশেরই রয়েছে পৃথক কৌশলগত সামরিক শক্তি। আল জাজিরার সংবাদদাতা ওসামা বিন জাভেদের মতে, পাকিস্তানের রয়েছে শক্তিশালী সেনাবাহিনী ও পারমাণবিক অস্ত্র, ন্যাটোভুক্ত দেশ হিসেবে তুরস্কের রয়েছে বিশ্বমানের ড্রোন প্রযুক্তি এবং সৌদি আরব যোগাচ্ছে এর প্রয়োজনীয় অর্থনৈতিক শক্তি।
২০২৩ সালের ৭ অক্টোবরের পর গাজায় ইসরায়েলি গণহত্যা, ইরান-ইসরায়েল সংঘাত এবং ডোনাল্ড ট্রাম্পের অধীনে মার্কিন পররাষ্ট্রনীতির অনিশ্চয়তা মধ্যপ্রাচ্যে চরম সংকট তৈরি করেছে। যুক্তরাষ্ট্রের নির্ভরযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন ওঠায় এই তিন দেশ পারস্পরিক মতপার্থক্য ভুলে নিজেদের সুরক্ষায় নতুন বিকল্প গড়ে তুলতে উদ্বুদ্ধ হয়েছে।
তবে এই সামরিক চুক্তি বাস্তবে কীভাবে কার্যকর হবে তা নিয়ে কিছু প্রশ্ন রয়েছে। কিলোয়েন গ্রুপের চেয়ারম্যান হারলান উলম্যানের মতে, চুক্তিতে এক দেশের ওপর আক্রমণকে সবার ওপর আক্রমণ হিসেবে বিবেচনা করার কথা বলা হলেও, কোনো সদস্য আক্রান্ত হলে অন্য দেশগুলো সরাসরি যুদ্ধে জড়াতে বাধ্য কি না তা এখনো পরিষ্কার নয়।
এই জোটে মিসর, কাতার, সিরিয়া বা আমিরাতের মতো অন্যান্য দেশ যুক্ত হতে পারে বলে ধারণা করা হলেও বিভিন্ন কূটনৈতিক জটিলতার কারণে তা নিশ্চিত নয়। পাকিস্তান, সৌদি আরব ও তুরস্ক বর্তমানে নানা আঞ্চলিক সংঘাতের মুখোমুখি হলেও, এই নতুন জোট শেষ পর্যন্ত মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনীতিতে নতুন অক্ষ তৈরি করতে পারবে কি না তা পরীক্ষাসাপেক্ষ।