শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণে কঠোর বিধিনিষেধ জারি করেছে পরিবেশ অধিদপ্তর। ‘শব্দদূষণ (নিয়ন্ত্রণ) বিধিমালা, ২০২৫’ অনুযায়ী নির্ধারিত শব্দমাত্রা মেনে চলার আহ্বান জানিয়ে গণবিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছে সংস্থাটি।
পরিবেশ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ড. মো. লুৎফর রহমান স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তিটি গত ৪ আগস্ট প্রকাশ করা হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে এলাকাভেদে শব্দের সর্বোচ্চ মাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। নিরব এলাকায় সর্বোচ্চ ৪০ ডেসিবল এবং শিল্প এলাকায় ৭৫ ডেসিবল পর্যন্ত শব্দের অনুমতি রয়েছে। নির্ধারিত সীমার বেশি শব্দ সৃষ্টি করা যাবে না।
বিধিমালা অনুযায়ী, সরকারি অনুমতি ছাড়া জনসমাগমস্থলে উচ্চশব্দ উৎপন্নকারী যন্ত্র ব্যবহার করা নিষিদ্ধ। অনুমতি মিললেও শব্দের মাত্রা সর্বোচ্চ ৯০ ডেসিবলের মধ্যে রাখতে হবে এবং এসব যন্ত্র পাঁচ ঘণ্টার বেশি ব্যবহার করা যাবে না। রাত ১১টার পর এ ধরনের যন্ত্র ব্যবহারেরও অনুমতি থাকবে না।
এ ছাড়া নির্ধারিত সীমার বেশি শব্দ উৎপন্নকারী হর্ন তৈরি, আমদানি, মজুদ, বিক্রি ও ব্যবহার নিষিদ্ধ করা হয়েছে। হাসপাতাল, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানসহ নিরব এলাকায় হর্ন বাজানো সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। এসব এলাকায় পটকা, আতশবাজি কিংবা অন্য কোনো মাধ্যমে শব্দদূষণও করা যাবে না।
আবাসিক এলাকায় রাত ৯টা থেকে সকাল ৬টা পর্যন্ত হর্ন বাজানোর ওপর নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। একই সঙ্গে প্রাকৃতিক বনাঞ্চল ও বন্যপ্রাণীর আবাসস্থলে উচ্চ শব্দ সৃষ্টি করে এমন কর্মকাণ্ড বন্ধের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
বনাঞ্চলে বনভোজন আয়োজন এবং উচ্চশব্দ উৎপন্নকারী যন্ত্র ব্যবহারের ক্ষেত্রেও বিধিনিষেধ রয়েছে। নির্মাণকাজের জন্যও নির্দিষ্ট সময় বেঁধে দেওয়া হয়েছে। আবাসিক এলাকার শেষ সীমানা থেকে ৫০০ মিটারের মধ্যে সন্ধ্যা ৭টা থেকে সকাল ৭টা পর্যন্ত নির্মাণযন্ত্র ব্যবহার বা পরিচালনা করা যাবে না।
পরিবেশ অধিদপ্তর জানিয়েছে, বিধিনিষেধ অমান্য করলে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ঘটনাস্থলে শব্দদূষন প্রত্যক্ষ করলে ট্রাফিক সার্জেন্ট বা তার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বিধিমালা অনুযায়ী শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিতে পারবেন।
শব্দদূষণের ক্ষতিকর প্রভাব থেকে জনস্বাস্থ্য ও পরিবেশ রক্ষায় সবাইকে সচেতন হওয়ার পাশাপাশি নতুন বিধিমালা মেনে চলার আহ্বান জানিয়েছে পরিবেশ অধিদপ্তর।