মধ্যপ্রাচ্যে ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে একটি ঐতিহাসিক যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তি স্বাক্ষর করেছে তুর্কিয়ে, সৌদি আরব এবং পাকিস্তান। সৌদি আরবের পবিত্র মক্কা নগরীতে "মক্কা যৌথ প্রতিরোধ চুক্তি" শীর্ষক এই ত্রিদেশীয় চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন তুর্কিয়ের প্রেসিডেন্ট রজব তৈয়ব এরদোয়ান, সৌদির যুবরাজ ও প্রধানমন্ত্রী মোহাম্মদ বিন সালমান এবং পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ।
এই চুক্তির প্রধান লক্ষ্য হলো তিনটি দেশের মধ্যে যৌথ প্রতিরক্ষা ও কৌশলগত সহযোগিতা জোরদার করা। চুক্তির শর্তানুযায়ী, তিন দেশের যেকোনো একটির ওপর সশস্ত্র হামলা বাকি সব দেশের ওপর হামলা হিসেবে গণ্য হবে। এছাড়া এই চুক্তি গোয়েন্দা তথ্য আদান-প্রদান, জ্বালানি, সামরিক শক্তি বৃদ্ধি এবং প্রযুক্তি উৎপাদনে সহযোগিতা বাড়াবে।
বিশ্লেষকদের মতে, এই জোট তিনটি রাষ্ট্রের নিজস্ব সামরিক ও অর্থনৈতিক শক্তির সমন্বয় ঘটাবে। নেটোর দ্বিতীয় বৃহত্তম সামরিক শক্তির অধিকারী তুর্কিয়ে, শীর্ষ তেল রপ্তানিকারক সৌদি আরব এবং একমাত্র মুসলিম পারমাণবিক শক্তিধর দেশ পাকিস্তান—এই তিন শক্তি এক হওয়ায় মধ্যপ্রাচ্যে নতুন নিরাপত্তা বলয় তৈরি হচ্ছে।
২০২৩ সালের ৭ অক্টোবরের পর গাজায় ইসরায়েলি হামলা এবং আঞ্চলিক উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে এই আলোচনার সূচনা হয়। নতুন এই চুক্তি সম্পর্কে ইরানি সংসদ সদস্য ইব্রাহিম রেজায়ি সামাজিক মাধ্যমে সমালোচনা করলেও ইরান সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো প্রতিক্রিয়া জানায়নি। অন্যদিকে ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকেও এখন পর্যন্ত কোনো মন্তব্য করা হয়নি।