ইতিহাস বদলে দেওয়া জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের দুই বছর পূর্ণ হলো আজ। এই দিনেই গণজোয়ারের স্রোতে শেখ হাসিনা ভারতে পালিয়ে যান এবং এর মধ্য দিয়ে তাঁর দীর্ঘ ১৬ বছরের শাসনকালের অবসান ঘটে। সরকারি চাকরিতে কোটাভিত্তিক নিয়োগ বাতিলের আন্দোলন থেকে শুরু হওয়া এই প্রতিরোধ ছাত্র-জনতার আত্মত্যাগে এক অভূতপূর্ব গণ-অভ্যুত্থানে রূপ নেয়।
জনগণের ওপর দীর্ঘ ১৬ বছরের নিপীড়ন, রাষ্ট্র মদদপুষ্ট বিচারবহির্ভূত হত্যা, গুম, মতপ্রকাশের স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ, নির্বাচনি জালিয়াতি ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের তীব্র ক্ষোভ থেকেই চব্বিশের এই আন্দোলন দানা বাঁধে। বস্তুত এই গণ-অভ্যুত্থান ছিল সমাজে জমে ওঠা বঞ্চনা, বৈষম্য, দুর্নীতি ও স্বৈরাচারী শাসনের বিরুদ্ধে এক বিশাল গণজাগরণের বিস্ফোরণ।
তরুণ প্রজন্মের হাত ধরে প্রতিবাদ শুরু হলেও এতে পরবর্তীতে দেশের অন্যতম বৃহৎ রাজনৈতিক দল বিএনপি এবং অন্যান্য দলগুলো একাত্ম হয়। একই সঙ্গে দেশে ও বিদেশে অবস্থানরত যেসব মানুষ গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সাহসিকতার সঙ্গে আন্দোলনের বার্তা প্রচার করেছেন এবং সাহস জুগিয়েছেন, তারাও এই বিজয়ের সমান অংশীদার।
ফ্যাসিবাদী সরকারকে টিকিয়ে রাখতে সেসময় পুলিশ-র্যাবসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনী যে গণহত্যা ও নৃশংসতা চালিয়েছিল, তার বিচার নিশ্চিত করা জরুরি। অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে স্বৈরাচারের পতন হলেও সামাজিক সুপরিবর্তন ও বৈষম্যহীন সমাজ গঠনের সংগ্রাম এখনো শেষ হয়নি। তাই সব চক্রান্ত নস্যাৎ করে কাঙ্ক্ষিত বাংলাদেশ বিনির্মাণে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে।