মন্থর অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির বৈশ্বিক বাস্তবতায় উন্নয়নশীল দেশগুলোর জন্য নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলে দিতে পারে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই। বিশ্বব্যাংকের ‘ওয়ার্ল্ড ডেভেলপমেন্ট রিপোর্ট ২০২৬: দ্য প্রমিজ অব আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স’ প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সঠিক প্রস্তুতি নিলে যেসব উন্নয়ন লক্ষ্য অর্জনে এক শতাব্দী লাগত, এআইয়ের কার্যকর ব্যবহারের মাধ্যমে তা মাত্র এক দশকেই অর্জন করা সম্ভব।
ওয়াশিংটন থেকে বৃহস্পতিবার পাঠানো এই মূল্যায়নে বলা হয়, চিকিৎসকদের রোগ নির্ণয়, কৃষকদের ফসল ব্যবস্থাপনা, উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি, কর প্রশাসন, সামাজিক নিরাপত্তা, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা এবং স্বাস্থ্য ও শিক্ষা খাতের মান উন্নয়নে এআই ভূমিকা রাখবে। ২০৩০-এর দশকের শেষ দিকে এটি বৈশ্বিক প্রবৃদ্ধিতে নতুন গতি আনতে পারে। তবে বর্তমানে শীর্ষ এআই প্রযুক্তিগুলো সীমিতসংখ্যক দেশ ও প্রতিষ্ঠানের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।
প্রতিবেদনে সতর্ক করা হয়েছে যে, বিদ্যুৎ, উচ্চগতির ইন্টারনেট, কম্পিউটিং সক্ষমতা ও দক্ষ জনবলের ঘাটতি থাকলে দেশগুলোর মধ্যে উন্নয়ন ও আয়বৈষম্য আরও বাড়তে পারে। সাব-সাহারা আফ্রিকার গ্রামীণ এলাকার প্রায় এক-তৃতীয়াংশ বিদ্যালয়ে বিদ্যুৎ এবং দুই-তৃতীয়াংশেরও বেশি বিদ্যালয়ে ইন্টারনেট নেই। এ পরিস্থিতি বদলাতে বিশ্বব্যাংক ‘মিশন-৩০০’ কর্মসূচির আওতায় ২০৩০ সালের মধ্যে ৩০ কোটি মানুষের কাছে বিদ্যুৎ পৌঁছে দেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছে।
উন্নয়নশীল দেশগুলোর জন্য বিশ্বব্যাংক তিন ধাপের রোডম্যাপ প্রস্তাব করেছে। প্রথমে বিদ্যমান এআই ব্যবহার শুরু করা, দ্বিতীয়ত স্থানীয় ভাষা ও সংস্কৃতি অনুযায়ী তা অভিযোজিত করা এবং তৃতীয়ত উন্নত এআই প্রযুক্তি উন্নয়নের দিকে এগোনো। বিশ্ব উন্নয়ন প্রতিবেদন ২০২৬-এর পরিচালক গৌরব নায়ার জানান, যেসব দেশ এখনই মৌলিক অবকাঠামো ও দক্ষ জনবল গড়ে তুলবে, তারাই এআইয়ের সবচেয়ে বেশি সুবিধা পাবে।
প্রতিবেদনে দেখা যায়, উচ্চ আয়ের দেশগুলোতে জেনারেটিভ এআই-এর কারণে ১৪.২ শতাংশ কর্মসংস্থান ঝুঁকির মুখে থাকলেও নিম্ন ও মধ্যম আয়ের দেশগুলোতে এই হার মাত্র ৪.৫ শতাংশ। অন্যদিকে, উন্নয়নশীল অর্থনীতির ১৬.২ শতাংশ কর্মক্ষেত্রে এআইয়ের মাধ্যমে উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি পেতে পারে। অর্থাৎ, কর্মীদের প্রতিস্থাপন নয়, বরং তাদের কার্যক্ষমতা বহুগুণ বাড়ানোই উন্নয়নশীল দেশগুলোর জন্য সবচেয়ে বড় সম্ভাবনা।