রাজধানীর মধ্য বাড্ডায় গৃহকর্ত্রী আফরোজা সুলতানাকে হত্যার মামলায় তার ব্যক্তিগত গাড়িচালক মো. হৃদয় বেপারী ওরফে মো. হৃদয় মিঞা ওরফে হৃদয়কে মৃত্যুদণ্ডের আদেশ দিয়েছেন আদালত। ২৯ জুলাই ২০২৬ তারিখে ঢাকার অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ-৩-এর বিচারক মোহাম্মদ মঈন উদ্দীন চৌধুরী এই রায় ঘোষণা করেন। আদালতের বেঞ্চ সহকারী গোলাম নবী বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
মামলার তথ্য অনুযায়ী, ২০২২ সালের ১৩ মার্চ মধ্য বাড্ডার একটি ভবনের দ্বিতীয় তলার ফ্ল্যাটে চাকরিজীবী আফরোজা সুলতানাকে নৃশংসভাবে গলা কেটে হত্যা করা হয়। ঘটনার পরদিন ভিকটিমের ভাই মো. আল মঞ্জিল বাদী হয়ে বাড্ডা থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।
সিসিটিভি ফুটেজ, বৈজ্ঞানিক তথ্য-প্রমাণ ও স্বীকারোক্তি অনুযায়ী জানা যায়, আসামি হৃদয় অনলাইনে জুয়ায় আসক্ত হয়ে বিপুল টাকা হেরে গিয়ে দেনাগ্রস্ত হয়ে পড়ে। জুয়ার দেনা মেটাতে ও স্বর্ণালঙ্কার লুণ্ঠনের উদ্দেশ্যে ঘটনার দিন বিকেলে আফরোজা সুলতানাকে একা পেয়ে নিজ হাতে চাকু দিয়ে গলা কেটে হত্যা করে সে।
পরবর্তীতে তদন্তকারী কর্মকর্তা ডিবি গুলশান জোনের সাব-ইনস্পেক্টর মো. রিপন উদ্দিন আসামির স্বীকারোক্তি অনুযায়ী মাটির নিচ থেকে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত ৯ ইঞ্চি লম্বা রক্তমাখা চাকু, লুণ্ঠিত ২২.০৪ গ্রাম স্বর্ণালঙ্কার, রক্তমাখা টিস্যু পেপার ও লুণ্ঠিত ৬০০ টাকাসহ ভ্যানিটি ব্যাগ উদ্ধার করেন। তদন্ত শেষে চার্জশিট দাখিলের পর বিচার চলাকালে মোট ১২ জন সাক্ষী আদালতে সাক্ষ্য প্রদান করেন।