ভেনেজুয়েলায় ভয়াবহ জোড়া ভূমিকম্পের পর হেলে পড়া ও বিপজ্জনক ভবনগুলো বুলডোজার দিয়ে ভেঙে ফেলার কাজ শুরু করেছে সরকার। তবে ধ্বংসস্তূপ দ্রুত সরিয়ে ফেলার এই প্রক্রিয়ার কারণে ধসে পড়া ভবনের নিচে চাপা পড়ে থাকা নিখোঁজদের লাশ উদ্ধার মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন উদ্ধারকর্মী ও স্বজনেরা।
গত ২৪ জুনের জোড়া ভূমিকম্পে কারাবালেদা শহরের ‘ওপিপিই ২৭’ আবাসন কমপ্লেক্সের চারটি বহুতল ভবনসহ প্রায় ১৯০টি স্থাপনা মাটির সঙ্গে মিশে যায়। সরকারি হিসাবে এ পর্যন্ত অন্তত ৬,১২৫ জনের মৃত্যু নিশ্চিত করা হয়েছে, তবে এনজিও ও স্থানীয়দের দাবি—প্রকৃত মৃতের সংখ্যা আরও অনেক বেশি এবং হাজার হাজার মানুষ এখনো নিখোঁজ রয়েছেন।
দুর্যোগের ছয় সপ্তাহ পেরিয়ে গেলেও গ্লেন্ডা ভিলোরিয়া নামে এক নারী তাঁর তিন বছর বয়সী ভাগ্নে মাতেওর মরদেহের খোঁজে স্থানীয় মর্গ ও ধ্বংসস্তূপে ঘুরে বেড়াচ্ছেন। ভিলোরিয়া ইতিমধ্যে তাঁর মা ও বোনসহ পরিবারের ছয় সদস্যের লাশ উদ্ধার করেছেন। অবরুদ্ধ স্থান থেকে মায়ের পচাগলা দেহ সরাতে করাত দিয়ে কাটার মতো হৃদয়বিদারক সিদ্ধান্তও তাঁকে নিতে হয়েছে।
উদ্ধারকারী সংস্থা 'সার্চ অ্যান্ড রেসকিউ মেক্সিকো'-র প্রধান ফ্রয়লান জেরার্ডো রোবলস জানান, ভারী যন্ত্রপাতি ব্যবহার করে ধ্বংসস্তূপ সরানোর কারণে অনেক লাশ চেনা অসম্ভব হয়ে পড়ছে। অন্যদিকে, ৩০ জুলাই কাটিয়া লা মার এলাকায় নিয়ন্ত্রিত বিস্ফোরণের মাধ্যমে একটি ক্ষতিগ্রস্ত টাওয়ার গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়। সরকারের পক্ষ থেকে পুনর্নির্মাণের অংশ হিসেবে আরও ভবন ভাঙার পরিকল্পনা রয়েছে।
বর্তমানে লা গুয়াইরা, কারাকাস, মিরান্ডা ও আরাগুয়া রাজ্যের ১০৭টি অস্থায়ী ক্যাম্পে ২৪,৪৭৭ জন মানুষ আশ্রয় নিয়েছেন। এনজিও 'প্ল্যান ইন্টারন্যাশনাল' সতর্ক করে জানিয়েছে, এসব ঘিঞ্জি ক্যাম্পে নারী ও শিশুরা সহিংসতা ও যৌন নির্যাতনের ঝুঁকিতে রয়েছে। তাছাড়া ১৯৯৯ সালের ধ্বংসাত্মক ভূমিধসের পর বছরের পর বছর অস্থায়ী আশ্রয়ে কাটাতে হওয়ার তিক্ত অভিজ্ঞতার কারণে অনেকেই আবার ভিটেমাটি হারানোর ভয়ে ক্যাম্পে যেতে চাইছেন না।