বন্ধ করুন
জুলাই-পরবর্তী বাংলাদেশে রাজনীতিতে ভাষার শালীনতা ফেরানোর তাগিদ
ডিজাইন:
100%
ইপেপার সংস্করণ
Mahakallol News | বাংলাদেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ
দৈনিক পত্রিকা


দৈনিক পত্রিকা ১৫ অক্টোবর ২০২৬ ইপেপার সংস্করণ
Mahakallol News | বাংলাদেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ

ইপেপার সংস্করণ ১৫ অক্টোবর ২০২৬ দৈনিক পত্রিকা

Mahakallol News | বাংলাদেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ


জুলাই-পরবর্তী বাংলাদেশে রাজনীতিতে ভাষার শালীনতা ফেরানোর তাগিদ


মহাকল্লোল নিউজ ডেস্ক
মহাকল্লোল নিউজ ডেস্ক
প্রকাশ: ০৬ আগস্ট ২০২৬ প্রিন্ট:
জুলাই-পরবর্তী বাংলাদেশে রাজনীতিতে ভাষার শালীনতা ফেরানোর তাগিদ
জুলাই-পরবর্তী বাংলাদেশে রাজনীতিতে ভাষার শালীনতা ফেরানোর তাগিদ
Featured Image

বাংলাদেশে গণতন্ত্রের চর্চায় অবাধ নির্বাচন, সংবিধান ও প্রশাসনিক সংস্কারের পাশাপাশি রাজনীতি ও প্রতিবাদের ভাষার গণতান্ত্রিকীকরণ অত্যন্ত জরুরি হয়ে পড়েছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, রাজনৈতিক ভাষা যত শালীন, সভ্য ও যুক্তিনির্ভর হবে, গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলোও তত স্থিতিশীল হবে এবং রাজনৈতিক সংস্কৃতি পরিশীলিত রূপ নেবে।

সাম্প্রতিক সময়ে অনেক রাজনৈতিক নেতার বক্তব্যে শালীনতার চরম অবক্ষয় লক্ষ্য করা যাচ্ছে। প্রতিপক্ষকে শত্রু বা দেশদ্রোহী হিসেবে চিহ্নিত করে ব্যক্তিগত আক্রমণ ও অশ্লীল বক্তব্য দেওয়ার চর্চা বাড়ছে, যা গণতন্ত্রের জন্য এক বিপজ্জনক অশনিসংকেত। ফরাসি দার্শনিক মিশেল ফুকোর মতে, ক্ষমতা শুধু রাষ্ট্রযন্ত্রের মাধ্যমেই নয়, বরং ভাষা ও বয়ানের মধ্য দিয়েও পরিচালিত হয়।

বিশ্ব ইতিহাস পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, ফরাসি বিপ্লব বা রুশ বিপ্লব-পরবর্তী সময়ে রাজনৈতিক ভাষার অবক্ষয় শেষ পর্যন্ত একদলীয় ও সহিংস রূপ নিয়েছিল। একই চিত্র বাংলাদেশের ইতিহাসেও স্বাধীনতার পর থেকে দেখা গেছে, যেখানে রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বীকে প্রতিপক্ষ না ভেবে রাষ্ট্রশত্রু বা বিশ্বাসঘাতক বানানোর সংস্কৃতি গড়ে উঠেছে।

২০২৪ সালের জুলাই বিপ্লবের পর বাংলাদেশের সামনে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ চ্যালেঞ্জগুলোর একটি হলো বুদ্ধিবৃত্তিক রূপান্তর। কেবল সরকারের মুখ বদল নয়, বরং রাজনৈতিক চিন্তা, আচরণ ও ভাষার মৌলিক পরিবর্তন অপরিহার্য। প্রতিহিংসা, অন্ধ আনুগত্য ও অপমানের বদলে তথ্য, যুক্তি, সম্মান ও সংহতির ভাষা প্রতিষ্ঠাই এই নতুন অধ্যায়ের মূল পরিচয় হওয়া উচিত।

রাজনৈতিক ভাষার এই অবক্ষয় রোধ করা কেবল রাষ্ট্রের দায়িত্ব নয়, বরং এটি সমাজ, গণমাধ্যম, রাজনৈতিক দল ও নাগরিক সমাজের একটি সম্মিলিত নৈতিক দায়িত্ব। নীতিভিত্তিক বিতর্ক চর্চা এবং শিষ্টাচার বজায় রাখার মাধ্যমেই একটি টেকসই ও পরিশীলিত গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র নির্মাণ সম্ভব।