হরমুজ প্রণালী পুনরায় চালু করার লক্ষ্যে একটি সাময়িক চুক্তির কাছাকাছি পৌঁছেছে ইরান, যুক্তরাষ্ট্র এবং ওমান। এর মাধ্যমে মধ্যপ্রাচ্যের অন্যতম এই বিপজ্জনক সংকটের উত্তেজনা কমার আশা তৈরি হয়েছে। মধ্যস্থতাকারীরা গত ১৭ জুনে স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারকটি পুনরুজ্জীবিত করার আগে জলপথটি নিয়ে একটি সাময়িক চুক্তি নিশ্চিত করতে কাজ করছেন।
এই আলোচনার মূল বিষয় হলো— হরমুজ প্রণালীর নিয়ন্ত্রণ কার হাতে থাকবে এবং ইরান সেখানে বাণিজ্যিক জাহাজ থেকে ফি আদায় করতে পারবে কি না। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যুদ্ধ শুরুর পর ইরান এই জলপথ বন্ধ করে দিয়েছিল। পরবর্তীতে তারা পুনরায় তা খুললেও জাহাজগুলোকে নিজস্ব সীমানা ব্যবহারের নির্দেশ দেয় তেহরান, যার জবাবে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ব্লকেড জারি করে।
ইরানি কর্মকর্তাদের মতে, নিরাপদ নৌপথ তৈরির বিষয়ে ওমানের সঙ্গে ইতিবাচক আলোচনা হয়েছে। তবে জলপথ খোলার পদ্ধতি, সামুদ্রিক সেবা ফি এবং সার্বিক নিরাপত্তা নিয়ে এখনও মতপার্থক্য রয়েছে। তেহরান স্পষ্ট করে জানিয়েছে, তারা ওয়াশিংটনের সাথে সরাসরি নয়, বরং কেবল ওমানের সাথেই যৌথভাবে প্রণালী পরিচালনার বিষয়ে আলোচনা করছে।
অন্যদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সোমবার বলেছেন, ইরানকে কোনো ফি নিতে দেওয়া হবে না। তবে মঙ্গলবার সন্ধ্যায় তিনি জানান, ইরানের সাথে আলোচনা খুব সুন্দরভাবে এগিয়ে যাচ্ছে। মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও জানান, ইরানের পরমাণু কর্মসূচির মূল আলোচনার থেকে হরমুজ প্রণালীর সমঝোতার বিষয়টি আলাদা।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, প্রস্তাবিত ৬০ দিনের অন্তর্বর্তীকালীন ব্যবস্থার অধীনে কোনো ট্রানজিট ফি নেওয়া হবে না। এই সময়ে উত্তর ও দক্ষিণ লেন ব্যবহার করে জাহাজ চলাচল করবে। তবে প্রণালী থেকে সমুদ্র মাইন অপসারণ, পরিবেশ রক্ষা ও সামুদ্রিক নিরাপত্তার জন্য সেবামূলক ফি দেওয়া হতে পারে কি না তা নিয়ে আলোচনা চলছে।