যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যুদ্ধবিরতির সুযোগ নিয়ে নিজেদের সামরিক শক্তি বাড়ানোর দাবি করেছে ইরান। আইআরজিসির মুখপাত্র হোসেইন মোহেব্ববি জানিয়েছেন, যুদ্ধবিরতির সময় দেশের অভ্যন্তরে ক্ষেপণাস্ত্র উৎপাদন ও নিখুঁত নিশানার ক্ষমতা বৃদ্ধি পেয়েছে। মার্কিন মিডিয়ার তথ্য অনুযায়ী, জুনের মধ্যে যুদ্ধপূর্ব মজুদের প্রায় ৭০ শতাংশ ক্ষেপণাস্ত্র এবং ৪০ শতাংশ ড্রোন ইরানের হাতে ছিল।
আইআরজিসির সাবেক জ্যেষ্ঠ কমান্ডার হোসেইন কানানি মোকাদ্দাম আল জাজিরাকে জানান, মার্কিন ও ইসরায়েলি হাজার হাজার হামলা তাদের দমাতে পারেনি। ভূগর্ভস্থ ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন সিটিতে মজুদের পাশাপাশি যুদ্ধাস্ত্রের অভ্যন্তরীণ উৎপাদন ও গুণগত মান বাড়ানো হয়েছে। তিনি আরও উল্লেখ করেন, কৌশলগতভাবে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা সারা দেশে ছড়িয়ে রয়েছে এবং তা সম্পূর্ণ ধ্বংস করা সম্ভব নয়।
সেনাবাহিনীর মুখপাত্র ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ আকরামিনিয়া রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনকে জানান, জুনে স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারক এবং যুদ্ধবিরতির প্রতিটি মুহূর্তের সর্বোচ্চ সদ্ব্যবহার করা হয়েছে। ভারপ্রাপ্ত প্রতিরক্ষামন্ত্রী মজিদ এবন-ই রেজা জানান, একদিনের জন্যও ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন উৎপাদন বন্ধ ছিল না এবং ড্রোন উৎপাদন যুদ্ধপূর্ব স্তরের তুলনায় তিনগুণে পৌঁছেছে।
এদিকে মধ্যপ্রাচ্যে আঞ্চলিক উত্তেজনা অব্যাহত রয়েছে এবং ইয়েমেনের হুথিরা সৌদি আরবের নাজরান বিমানবন্দরে ড্রোন হামলা চালিয়েছে। লোহিত সাগরে ভারতের পতাকাবাহী একটি কার্গো জাহাজ বিস্ফোরক ভর্তি নৌকার আঘাতে ক্ষতিগ্রস্ত হলেও ১৪ জন নাবিককে নিরাপদে উদ্ধার করা হয়েছে। ওমানের খাসাবের উত্তর-পূর্বে লাইবেরিয়ার পতাকাবাহী একটি বাল্কার জাহাজও অজ্ঞাত প্রজেক্টাইলের আঘাতে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।