আমেরিকা ও ইরানের মধ্যকার চলমান সংঘাত নিরসনে মধ্যস্থতার প্রচেষ্টা জোরদার করতে শীর্ষ ইরানি কর্মকর্তাদের ইসলামাবাদ সফরের আমন্ত্রণ জানিয়েছে পাকিস্তান। দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসহাক দার ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচিকে এবং জাতীয় পরিষদের স্পিকার আয়াজ সাদিক ইরানের স্পিকার ও প্রধান সমঝোতাকারী মোহাম্মদ বাকের গালিবাফকে আনুষ্ঠানিকভাবে আমন্ত্রণ জানান।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুদ্ধ শুরুর পর থেকে পাকিস্তান সহিংসতা পরিহার করে কূটনৈতিক সমাধানের আহ্বান জানিয়ে আসছে। চলতি বছরের এপ্রিলে ইসলামাবাদে দুই দেশের মধ্যে কয়েক দশকের মধ্যে প্রথম প্রত্যক্ষ আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। এর ধারাবাহিকতায় গত জুনে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ, ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান এবং মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের উপস্থিতিতে 'ইসলামাবাদ সমঝোতা স্মারক' স্বাক্ষরিত হয়।
তবে এই সমঝোতার পর কয়েক দফায় যুদ্ধবিরতি ভেস্তে গেছে। সম্প্রতি ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই নিশ্চিত করেছেন যে, আমেরিকার সাথে নতুন করে কোনো আলোচনা চলছে না। বর্তমানে আন্তর্জাতিক জলপথ স্ট্রেট অব হরমুজ পুনরায় উন্মুক্ত করার লক্ষ্যে কেবল ওমানের সাথে তাদের কারিগরি আলোচনা বজায় রয়েছে।
এদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে তেহরানের নেতাদের 'দ্বিমুখী আচরণকারী' বলে মন্তব্য করেছেন। একই সাথে তিনি সতর্ক করে বলেছেন, চুক্তি স্বাক্ষরের জন্য এটিই ইরানের 'শেষ সুযোগ', তা না হলে তাদের পূর্ণাঙ্গ আত্মসমর্পণ করতে হবে। তীব্র অবিশ্বাসের মাঝেও পাকিস্তান আঞ্চলিক শান্তি ও যুদ্ধবিরতি নিশ্চিতে তাদের কূটনৈতিক প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।