বাংলাদেশ ব্যাংক টিটি (টেলিগ্রাফিক ট্রান্সফার) ডিসকাউন্টিং সুবিধার বিপরীতে ব্যাংকগুলোর চলতি হিসাবে অর্থ লিয়েন (অবরুদ্ধ) রাখার দীর্ঘদিনের ব্যবস্থা বাতিল করেছে। নতুন নির্দেশনা অনুযায়ী, গত ১ জুলাই থেকে এই সুবিধা প্রত্যাহার করা হয়েছে। সোমবার (৩ আগস্ট) বাংলাদেশ ব্যাংকের ব্যাংকিং প্রবিধি ও নীতি বিভাগ-১ থেকে এ-সংক্রান্ত সার্কুলার জারি করে সব তফসিলি ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহীদের কাছে পাঠানো হয়েছে।
১৯৯৪ ও ১৯৯৯ সালের বিভিন্ন নির্দেশনার মাধ্যমে তফসিলি ব্যাংকগুলোকে সিকিউরিটি বন্ধক রেখে টিটি ডিসকাউন্টিং সুবিধা দেওয়া হতো। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের শাখা না থাকা এলাকায় সোনালী ব্যাংকের মাধ্যমেও এই সুবিধা পাওয়া যেত। প্রয়োজনীয় সিকিউরিটি না থাকলে বাংলাদেশ ব্যাংকে সংরক্ষিত চলতি হিসাবের অর্থে লিয়েন রেখে সুবিধা গ্রহণের সুযোগ ছিল।
পরবর্তী সময়ে ১৯৯৯ সালের নির্দেশনা অনুযায়ী, কোনো ব্যাংকের অনুমোদিত টিটি ডিসকাউন্টিং সীমার ২০ শতাংশ সমপরিমাণ অর্থ বাংলাদেশ ব্যাংকে সংরক্ষিত চলতি হিসাবে লিয়েন রাখতে হতো। এই অর্থ ব্যাংকের বিধিবদ্ধ নগদ জমা (সিআরআর) হিসাবের অংশ হিসেবে গণ্য হতো না। সাম্প্রতিক সময়ে এ সুবিধা ব্যবহারকারী ব্যাংকের সংখ্যা খুবই কম ছিল, ফলে অপ্রয়োজনীয়ভাবে অর্থ আটকে থাকত।
এতে ব্যাংকগুলোর বিভিন্ন নিয়ন্ত্রক অনুপাত বজায় রাখতে অতিরিক্ত চাপ তৈরি হচ্ছিল। বাংলাদেশ ব্যাংক জানিয়েছে, বর্তমানে ব্যাংকগুলোর দৈনন্দিন তারল্য ব্যবস্থাপনার জন্য কল মানি মার্কেট, রেপো, স্ট্যান্ডিং লেন্ডিং ফ্যাসিলিটি (এসএলএফ) এবং আন্তঃব্যাংক ঋণসহ বিভিন্ন বিকল্প উৎস সহজলভ্য। ফলে চলতি হিসাবে লিয়েন রেখে টিটি ডিসকাউন্টিং সুবিধা চালু রাখার প্রয়োজনীয়তা আর নেই।
এসব বিষয় বিবেচনা করে বাংলাদেশ ব্যাংক চলতি হিসাবে লিয়েন রেখে টিটি ডিসকাউন্টিং সুবিধা প্রদানের ব্যবস্থা ২০২৬ সালের ১ জুলাই থেকে সম্পূর্ণ বাতিল করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এই পদক্ষেপ ব্যাংকগুলোর তারল্য ব্যবস্থাপনায় আরও স্বস্তি আনবে বলে আশা করা হচ্ছে।