বন্ধ করুন
চট্টগ্রামে তীব্র গ্যাস সংকট: জনজীবন, শিল্পে স্থবিরতা
ডিজাইন:
100%
ইপেপার সংস্করণ
Mahakallol News | বাংলাদেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ
দৈনিক পত্রিকা


দৈনিক পত্রিকা ১৫ অক্টোবর ২০২৬ ইপেপার সংস্করণ
Mahakallol News | বাংলাদেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ

ইপেপার সংস্করণ ১৫ অক্টোবর ২০২৬ দৈনিক পত্রিকা

Mahakallol News | বাংলাদেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ


চট্টগ্রামে তীব্র গ্যাস সংকট: জনজীবন, শিল্পে স্থবিরতা


মহাকল্লোল নিউজ ডেস্ক
মহাকল্লোল নিউজ ডেস্ক
প্রকাশ: ০৩ আগস্ট ২০২৬ প্রিন্ট:
চট্টগ্রামে তীব্র গ্যাস সংকট: জনজীবন, শিল্পে স্থবিরতা
চট্টগ্রামে তীব্র গ্যাস সংকট: জনজীবন, শিল্পে স্থবিরতা
Featured Image

চট্টগ্রামের জনজীবন, পরিবহন, শিল্প ও ব্যবসা-বাণিজ্যে ভয়াবহ গ্যাস সংকটের কারণে স্থবিরতা নেমে এসেছে। আবাসিক এলাকায় চুলা জ্বলছে না, শিল্প-কারখানার উৎপাদন কমেছে এবং সিএনজি স্টেশনগুলোতে দীর্ঘ অপেক্ষা করেও গ্যাস পাচ্ছেন না চালকেরা। গ্যাস সরবরাহ কমে যাওয়ায় বিদ্যুৎ উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে, ফলে লোডশেডিংও বেড়েছে।

গত ২১ জুলাই কক্সবাজারের মহেশখালীতে ভাসমান এলএনজি টার্মিনালে অগ্নিকাণ্ড ও কারিগরি ত্রুটির কারণে জাতীয় গ্রিডে গ্যাস সরবরাহ উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যায়। প্রতিদিন প্রায় ১০০ কোটি ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ যেখানে অর্ধেকে নেমে এসেছে, সেখানে চট্টগ্রামের জন্য নির্ধারিত গ্যাসের একটি বড় অংশ রাজধানী ঢাকার চাহিদা পূরণে সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে। এর ফলে গত কয়েক দিনে চট্টগ্রামে সংকট আরও তীব্র হয়েছে।

কর্ণফুলী গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেডের (কেজিডিসিএল) মহাব্যবস্থাপক প্রকৌশলী মো. তাজউদ্দিন ঢালী জানান, জাতীয় গ্রিড থেকে চাহিদা অনুযায়ী গ্যাস মিলছে না। সীমিত সরবরাহ রেশনিংয়ের মাধ্যমে বিতরণের চেষ্টা করা হলেও ১ আগস্টের পর পরিস্থিতি আরও খারাপ হয়েছে। গ্যাসের চাপ ও প্রবাহ কম থাকায় পরিস্থিতি বেগতিক হয়ে পড়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগ সূত্র অনুযায়ী, ক্ষতিগ্রস্ত এলএনজি টার্মিনাল মেরামত করে পুনরায় চালু করতে আগামী ১০ আগস্ট পর্যন্ত সময় চেয়েছে পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠান। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, টার্মিনালটি সচল না হওয়া এবং জাতীয় গ্রিডে গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত চট্টগ্রামের এই সংকট দ্রুত কাটার সম্ভাবনা নেই।

কেজিডিসিএল সূত্রমতে, চট্টগ্রামে গ্যাসের দৈনিক স্বাভাবিক চাহিদা প্রায় ৩৫০ মিলিয়ন ঘনফুট হলেও আগস্টের শুরু থেকে সরবরাহ আরও কমে গেছে। এর ফলে হালিশহর, আগ্রাবাদ, চান্দগাঁও, চকবাজার, বাকলিয়াসহ নগরীর অধিকাংশ আবাসিক এলাকায় ভোরের পর থেকেই গ্যাসের চাপ প্রায় শূন্যে নেমে আসছে। অনেক পরিবার বিকেলে বা গভীর রাতে রান্না করছে, অনেকে আবার হোটেল-রেস্তোরাঁর খাবারের ওপর নির্ভর করতে বাধ্য হচ্ছেন।

আসকার দিঘির পাড়ের বাসিন্দা ইশরাত জাহান জানান, গত এক সপ্তাহ ধরে তাদের পরিবারের খাবারের কোনো নির্দিষ্ট সময় নেই। সকালে গ্যাস চলে যাওয়ায় দুপুরে রান্না সম্ভব হচ্ছে না, তাই রেস্তোরাঁ থেকে খাবার কিনতে হচ্ছে। ছোট শিশুদের নিয়মিত হোটেলের খাবার খাওয়ানো নিয়ে তিনি দুশ্চিন্তা প্রকাশ করেন।

সিএনজি রিফুয়েলিং স্টেশনগুলোতেও একই চিত্র দেখা গেছে। গ্যাসের পর্যাপ্ত চাপ না থাকায় অটোরিকশা, মাইক্রোবাসসহ সিএনজিচালিত যানবাহনগুলোকে দীর্ঘ সময় সারিতে দাঁড়িয়ে থাকতে হচ্ছে। কয়েক ঘণ্টা অপেক্ষার পরও অনেক চালক গ্যাস না পেয়ে ফিরে যাচ্ছেন।

মইজ্জার টেক এলাকার অটোরিকশাচালক মোহাম্মদ ফরহাদ আলম বলেন, আগে ১০-২০ মিনিটের মধ্যে গ্যাস নেওয়া গেলেও এখন চার ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়েও গ্যাস পাওয়া যাচ্ছে না। এতে দিনের বেশিরভাগ সময় লাইনে কাটায় যাত্রী পরিবহন করা সম্ভব হচ্ছে না, ফলে মালিকের জমা তোলা ও সংসার চালানো কঠিন হয়ে পড়েছে।

গ্যাস সংকটের বড় ধাক্কা লেগেছে চট্টগ্রামের শিল্প খাতে। কেজিডিসিএল সূত্রমতে, চট্টগ্রাম ইউরিয়া সার কারখানাসহ বিভিন্ন বড় শিল্প প্রতিষ্ঠানে গ্যাসের স্বল্পতার কারণে উৎপাদন ৩৫ থেকে ৫০ শতাংশ পর্যন্ত কমেছে। রপ্তানিমুখী শিল্প, ইস্পাত, টেক্সটাইল ও খাদ্য প্রক্রিয়াজাতকরণসহ বিভিন্ন খাত এতে ক্ষতির মুখে পড়েছে।

বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোতে প্রয়োজনীয় জ্বালানি সরবরাহ না থাকায় উৎপাদন সক্ষমতা কমে গেছে, ফলে চট্টগ্রামসহ বিভিন্ন এলাকায় লোডশেডিংয়ের মাত্রা বেড়েছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, গ্যাসের সরবরাহ স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত বিদ্যুৎ উৎপাদনও স্বাভাবিক হবে না। এতে শিল্প উৎপাদন ও জনজীবনের ওপর দ্বিমুখী চাপ তৈরি হয়েছে।

চট্টগ্রাম চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (সিসিসিআই) সভাপতি আমিরুল হক বলেন, গ্যাস সংকটের কারণে চট্টগ্রামের শিল্প খাত সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। অনেক কারখানাকে উৎপাদন কমাতে হচ্ছে, এমনকি সাময়িকভাবে বন্ধ রাখার পরিস্থিতিও তৈরি হয়েছে। রপ্তানি আদেশ বাস্তবায়ন, সময়মতো পণ্য সরবরাহ এবং উৎপাদন ব্যয়—সবকিছুই নেতিবাচকভাবে প্রভাবিত হচ্ছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।