কিশোরগঞ্জের বিস্তীর্ণ হাওর অঞ্চলে পানি বাড়ার সাথে সাথে পর্যটকদের আনাগোনা শুরু হয়েছে। করিমগঞ্জের বালিখোলা হাওরের সুবিশাল জলরাশি, ইটনা-মিঠামইন-অষ্টগ্রামের দীর্ঘ অলওয়েদার সড়ক এবং হাওররাণী খ্যাত নিকলীর বেড়িবাঁধ পর্যটকদের আকর্ষণ করছে।
মিঠামইনের দিল্লীর আখড়া, অষ্টগ্রামের কুতুবশাহী মসজিদ, ইটনার শাহী মসজিদ, জয়সিদ্ধিতে র্যাংলার আনন্দমোহন বসুর বাড়ি, ধনপুরের কাঠুইরে গুরুদয়াল সরকারের বাড়ি, নিকলীর হাওর, ছাতিরচরের করচবন, সুলতানী আমলের গুরুই মসজিদ, নিকলী-করিমগঞ্জ সড়ক এবং তাড়াইলের হিজলজানি হাওরসহ বিভিন্ন স্থানে পর্যটকরা ভিড় করছেন। দেশের নানা প্রান্ত থেকে সৌন্দর্য ও ভ্রমণপিপাসুরা প্রতিদিন হাওরের এই নান্দনিক স্থানগুলোতে ছুটে আসছেন।
বিস্তীর্ণ জলরাশির মাঝে আছড়ে পড়া উত্তাল ঢেউয়ের গর্জন এবং বুকভরে হাওরের নির্মল বাতাস নেওয়ার প্রশান্তি সত্যিই অসাধারণ। হাওরের নান্দনিক স্থানগুলোর মধ্যে দর্শনার্থীদের কাছে নিকলী বেড়িবাঁধ একটি পছন্দের গন্তব্য।
২০০০ সালে নিকলী উপজেলা সদরে হাওরের ঢেউ থেকে সুরক্ষায় প্রায় দুই কিলোমিটার দীর্ঘ এই বেড়িবাঁধ নির্মাণ করা হয়েছিল। পরবর্তীতে ২০১০ সালে নিকলী উপজেলা পরিষদের সামনের প্রতিরক্ষা দেওয়াল বাঁধটিকেও এর সাথে সংযুক্ত করা হয়। এরপর থেকেই দীর্ঘ ৬ কিলোমিটারের এই হাওর রক্ষা বাঁধটিকে কেন্দ্র করে নিকলী পর্যটন আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে।
মিঠামইন, বালিখোলা এবং নিকলী বেড়িবাঁধে পর্যটকদের জন্য রংবেরঙের নৌকা ও স্পিডবোটের ব্যবস্থা রয়েছে। "পর্যটকদের নিরাপত্তা ও আতিথেয়তায় কিশোরগঞ্জ জেলা পুলিশ সর্বদা আপনার পাশে" – এই বাণীকে সামনে রেখে কিশোরগঞ্জ জেলা পুলিশ প্রশাসন হাওরের ঐতিহ্যবাহী পর্যটন স্থানসমূহ রক্ষায় এবং পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সময়োপযোগী উদ্যোগ নিয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে নিকলী হাওর, বালিখোলা ঘাট ও মিঠামইন অলওয়েদার সড়ক।
পর্যটকদের সর্বোচ্চ নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রতিটি হোটেল, রিসোর্ট ও দর্শনীয় পয়েন্টে পর্যাপ্ত আলোর ব্যবস্থা এবং সিসিটিভি ক্যামেরা সচল রাখা হবে। হাওর অঞ্চলে পর্যটকদের জন্য লাইফ জ্যাকেট বাধ্যতামূলক করা হয়েছে এবং নৌ-পরিবহনে অতিরিক্ত যাত্রী বোঝাই রোধে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।
খাবার, আবাসন ও যাতায়াত ভাড়ায় পর্যটকদের হয়রানি বা অতিরিক্ত অর্থ আদায় রোধে কঠোর নজরদারি রাখা হবে। যেকোনো সমস্যায় জেলা পুলিশ এবং ট্যুরিস্ট পুলিশের তাৎক্ষণিক সহায়তা নিশ্চিত করতে হটলাইন ও হেল্পডেস্কের কার্যকারিতা বাড়ানো হয়েছে। এছাড়া, পর্যটকদের সন্ধ্যার মধ্যেই স্পট ত্যাগ করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
কিশোরগঞ্জের পর্যটন শিল্পকে আরও নিরাপদ, সুন্দর ও আকর্ষণীয় করে তুলতে পুলিশ প্রশাসনের এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন ব্যবসায়ী নেতৃবৃন্দ। তারা এই কার্যক্রমে শতভাগ সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছেন।